লেবাননে যুদ্ধের সম্ভাবনা কমাতে নতুন সংঘাত নিরসন প্রক্রিয়া চালু হয়েছে। সোমবার ঘোষিত এই ‘সংঘাত নিরসন সেল’ ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে যুদ্ধবিরতি শক্তিশালী করতে কাজ করবে।
এই প্রক্রিয়ার উদ্দেশ্য হলো, সংঘাতের পক্ষগুলোকে যোগাযোগের একটি মাধ্যম প্রদান করা, যাতে বিচ্ছিন্ন ঘটনাগুলো বড় ধরনের সহিংসতায় রূপান্তরিত না হয়। যুক্তরাষ্ট্র এই প্রক্রিয়াকে সমর্থন করছে, কারণ লেবানন মার্কিন-ইরান মেমোরেন্ডামের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
ইরান বারবার জানিয়েছে যে, তারা ইসরায়েলকে লেবাননে হামলা চালানোর অনুমতি দেবে না। অন্যদিকে, ইসরায়েল লেবাননে হামলা চালানোর ক্ষমতা সীমিত করার কোনো প্রচেষ্টা গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র উভয় পক্ষের মধ্যে একটি সেতুবন্ধন গড়ে তোলার চেষ্টা করছে, যদিও হিজবুল্লাহর অস্ত্রহরণের দাবি করা হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এই সংঘাত নিরসন সেলকে সমর্থন করেছেন। তিনি বলেন, “যদিও ইসরায়েল লেবাননে হামলা চালাচ্ছে, হামলার মাত্রা পূর্বের তুলনায় কমেছে।”
লেবাননে হামলার ফলে চার হাজারেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছে। হামলার তীব্রতা অক্টোবর ২০২৩ থেকে বেড়েছে, যখন হিজবুল্লাহ ইসরায়েলের দিকে রকেট নিক্ষেপ করে।
হিজবুল্লাহ সরাসরি আলোচনায় অংশগ্রহণ না করলেও, লেবাননের সরকারের সঙ্গে আলোচনা চলমান রয়েছে। হিজবুল্লাহ একটি বিবৃতিতে জানায়, এই আলোচনা শুধুমাত্র যুক্তরাষ্ট্রের নির্দেশনার প্রতি সম্মতি জানানো।
তবে, সংঘাত নিরসন প্রক্রিয়া এই সংকটের সমাধানের একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। চাথাম হাউসের আন্তর্জাতিক আইন প্রোগ্রামের পরিচালক মার্ক ওয়েলার জানান, “এটি একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ যা সহিংসতা এড়াতে সাহায্য করবে।”
এখন প্রশ্ন হলো, সংঘাত নিরসন কি অস্ত্রহরণের নিশ্চয়তা দেয়? যুক্তরাষ্ট্র এবং লেবাননের সরকার হিজবুল্লাহর অস্ত্র রাষ্ট্রের আওতায় আনার জন্য চাপ দিচ্ছে, তবে ইরান এই দাবি বিরোধিতা করছে।