বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্মের আরও একটি বড় সাফল্য। আন্তর্জাতিক নির্বাচন প্রক্রিয়ার কঠিন ধাপ পেরিয়ে রাশিয়ায় অনুষ্ঠিতব্য মর্যাদাপূর্ণ 'ইন্টারন্যাশনাল চিলড্রেনস কনফারেন্স ফর পিস: চিলড্রেন অ্যাজ দ্য পিসমেকারস' সম্মেলনে অংশগ্রহণের জন্য নির্বাচিত হয়েছেন বাংলাদেশের ছয়জন কৃতী শিক্ষার্থী।
এই সম্মেলন আগামী ১৮ জুন থেকে ১৩ জুলাই ২০২৬ পর্যন্ত রাশিয়ার ক্রিমিয়া প্রজাতন্ত্রের বিখ্যাত আন্তর্জাতিক শিশু কেন্দ্র 'আরটেক'-এ অনুষ্ঠিত হবে। আয়োজকেরা সম্প্রতি চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণা করে জানিয়েছেন, নির্বাচিত শিক্ষার্থীরা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে টিকিট পেয়ে তিন সপ্তাহব্যাপী এই আন্তর্জাতিক সম্মেলনে অংশ নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন।
নির্বাচিত বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা হলেন—দিনাজপুরের টিউলিপ ইন্টারন্যাশনাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রেম জুনিয়র টি. হান্সডাক; ঢাকার মতিঝিল সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের আহনাফ কাওছার ও জাহরান কাওছার; সরকারি মোহাম্মদপুর মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের মো. দাইয়ান রহমান ও মো. আয়ান রহমান এবং ঢাকা রেসিডেনশিয়াল মডেল কলেজের চৌধুরী মাহতাসিম মাসরাফি।
আয়োজক কর্তৃপক্ষের মতে, এই কর্মসূচির লক্ষ্য হলো আলোচনা, সাংস্কৃতিক বিনিময়, শিক্ষামূলক কার্যক্রম এবং যৌথ প্রকল্পের মাধ্যমে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের তরুণ কূটনীতিক ও শান্তি-নির্মাতাদের অনুপ্রাণিত করা।
সম্মেলনে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ১৪ থেকে ১৭ বছর বয়সী তরুণ প্রতিনিধিরা অংশ নেবেন। এর মূল লক্ষ্য হলো শিশু ও তরুণদের মধ্যে বন্ধুত্ব, আন্তঃসাংস্কৃতিক বোঝাপড়া এবং বিশ্বজুড়ে শান্তি প্রতিষ্ঠার ধারণা জোরদার করা।
আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই উদ্যোগটি ২০২৫ সালের 'চিলড্রেনস ডিক্লারেশন অব পিস' বা শিশুদের শান্তি ঘোষণার সাফল্যের ধারাবাহিকতা। গত বছরের ঐতিহাসিক ঘোষণাটি ৬৭টি দেশের ৩ হাজার ২০০-এরও বেশি শিশু মিলে গ্রহণ করেছিল এবং পরবর্তীতে তা জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদেও আনুষ্ঠানিকভাবে উপস্থাপন করা হয়।
ইতিহাসে খ্যাতনামা দুই শিশু শান্তিদূত- যুক্তরাষ্ট্রের সামান্থা স্মিথ এবং রাশিয়ার কাতিয়া লিচেভার অনুপ্রেরণায় এই পুরো কর্মসূচি পরিচালিত হচ্ছে। স্নায়ুযুদ্ধের উত্তাল সময়ে এই দুই শিশু বিশ্বজুড়ে বন্ধুত্ব ও শান্তির প্রতীক হিসেবে দারুণ পরিচিতি পেয়েছিল।
নির্বাচিত বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের ইতোমধ্যে আরটেকের অফিশিয়াল অনলাইন সিস্টেমে নিবন্ধন সম্পন্ন করার প্রক্রিয়া শেষ হয়েছে। মধ্য জুনেই রাশিয়ার উদ্দেশ্যে দেশ ছাড়ার সব প্রস্তুতি নিতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে তাঁদেরকে।
আয়োজকরা আশা করছেন, বাংলাদেশি তরুণদের এই অংশগ্রহণ আন্তর্জাতিক সংলাপ, সাংস্কৃতিক বিনিময় ও বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে নতুন প্রজন্মকে আরও বেশি সম্পৃক্ত ও অনুপ্রাণিত করবে।