সোমবার, ১৫ জুন, ২০২৬
ব্রেকিং
ধর্ম

লিসবনে আন্তর্জাতিক মিডওয়াইফ কংগ্রেসে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদল নেতৃত্ব দিচ্ছেন জিয়াউদ্দিন হায়দার

লিসবনে ৩৪তম আন্তর্জাতিক মিডওয়াইফ কংগ্রেসে বাংলাদেশের প্রতিনিধিদল নেতৃত্ব দিচ্ছেন ড. জিয়াউদ্দিন হায়দার।

লিসবনে আন্তর্জাতিক মিডওয়াইফ কংগ্রেসে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদল নেতৃত্ব দিচ্ছেন জিয়াউদ্দিন হায়দার

প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্য বিষয়ক বিশেষ সহকারী (প্রতিমন্ত্রীর মর্যাদাসম্পন্ন) ড. জিয়াউদ্দিন হায়দার পর্তুগালের লিসবনে অনুষ্ঠিত ৩৪তম ইন্টারন্যাশনাল কনফেডারেশন অব মিডওয়াইভস (ICM) ট্রায়েনিয়াল কংগ্রেসে বাংলাদেশ সরকারের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন।

১৩ জুন থেকে শুরু হওয়া তিন দিনব্যাপী এই সম্মেলনে ১০০টিরও বেশি দেশের সরকার, স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ, মিডওয়াইফ, উন্নয়ন সহযোগী এবং পেশাজীবী সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করছেন। মাতৃস্বাস্থ্য, নবজাতক স্বাস্থ্য এবং মিডওয়াইফারি সেবার উন্নয়নে বৈশ্বিক অভিজ্ঞতা বিনিময় ও ভবিষ্যৎ কর্মপন্থা নির্ধারণই এ সম্মেলনের মূল লক্ষ্য।

বাংলাদেশের প্রতিনিধিদল প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারের স্বাস্থ্যখাত রূপান্তরের সাহসী ভিশন তুলে ধরছে। সরকার দেশের প্রতিটি ইউনিয়ন ও শহুরে ওয়ার্ডে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা ইউনিট প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে, যেখানে গর্ভবতী মা ও নবজাতকের জন্য মানসম্মত সেবা নিশ্চিত করা হবে।

জটিলতামুক্ত প্রসব এসব ইউনিটে সম্পন্ন করার ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে, যাতে প্রত্যন্ত এলাকার নারীরাও ঘরের কাছেই নিরাপদ মাতৃসেবা পেতে পারেন। সরকার প্রতিটি প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা ইউনিটে কমপক্ষে দুইজন মিডওয়াইফ নিয়োগের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।

আগামী ৩ থেকে ৫ বছরের মধ্যে ধাপে ধাপে ২৫,০০০ মিডওয়াইফ নিয়োগের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সরকার। এই বিনিয়োগের মাধ্যমে বাংলাদেশ একটি শক্তিশালী, দক্ষ ও পেশাদার মিডওয়াইফারি কর্মীবাহিনী গড়ে তুলতে চায়, যা মাতৃমৃত্যু ও নবজাতক মৃত্যুহার হ্রাসে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

সম্মেলনে অংশগ্রহণ উপলক্ষে ড. জিয়াউদ্দিন হায়দার বলেন, "মিডওয়াইফরা মা ও নবজাতকের জীবনরক্ষার প্রথম সারির যোদ্ধা। একটি সুস্বাস্থ্যবান বাংলাদেশ গড়তে হলে আমাদের প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার কেন্দ্রে মিডওয়াইফদের স্থান দিতে হবে।"

তিনি আরও বলেন, "২৫ হাজার মিডওয়াইফ নিয়োগের পরিকল্পনা বাংলাদেশের মাতৃ ও নবজাতক স্বাস্থ্যখাতে একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ। এটি দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি বিনিয়োগ।" ড. হায়দার উন্নয়ন সহযোগীদের অবদানের প্রশংসা করেন এবং বলেন, বাংলাদেশ সরকার ভবিষ্যতেও UNFPA এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে কাজ করবে।

সম্মেলন চলাকালে ড. হায়দার বিভিন্ন সেশন ও আলোচনায় বক্তব্য রাখবেন এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন