প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, সরকার দেশের প্রতিটি গ্রাম ও ইউনিয়ন পরিষদ নিরাপদ রাখতে কাজ করছে। তিনি বলেন, "গ্রামীণ জনপদ নিরাপদ থাকলে বাংলাদেশও নিরাপদ থাকবে।"
আজ রাজধানীর জাতীয় প্যারেড গ্রাউন্ডে ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে আয়োজিত গ্রাম পুলিশদের মহাসমাবেশে তিনি এ কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, "গ্রাম পুলিশের ভূমিকা অনেক বেশি, কারণ তারা স্থানীয় পর্যায়ে অপরাধের তথ্য সংগ্রহ করে প্রশাসনকে সহযোগিতা করতে পারে।"
সমাবেশে প্রধানমন্ত্রী গ্রাম পুলিশ সদস্যদের বেতন বাড়ানোর ঘোষণা দেন। এখন থেকে একজন গ্রাম পুলিশ সদস্য মাসিক ১০,৫০০ টাকা এবং গ্রাম পুলিশের প্রধান ১১,০০০ টাকা বেতন পাবেন। তিনি জানান, "প্রত্যেক সদস্যকে প্রতি মাসে ১৫০ টাকা মোবাইল বিল দেওয়া হবে।"
গ্রাম পুলিশ সদস্যদের অবসরকালীন ভাতা ৫০,০০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৮০,০০০ টাকা এবং গ্রাম পুলিশ প্রধানদের জন্য ৮০,০০০ টাকা থেকে এক লাখ টাকা করা হয়েছে। তিনি বলেন, "যাতায়াত ভাতা সপ্তাহে ৩০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫০০ টাকা করা হয়েছে।"
নারী ক্ষমতায়ন ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী প্রতিটি ইউনিয়নে দুজন করে নতুন নারী গ্রাম পুলিশ নিয়োগের ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, "নারী গ্রাম পুলিশের মাতৃত্বকালীন ছুটি ছয় মাস করা হবে।"
গ্রাম পুলিশের কাজের স্বীকৃতি হিসেবে প্রতিটি ইউনিয়নের একটি দীর্ঘ সড়ক গ্রাম পুলিশের নামে নামকরণের উদ্যোগ নেওয়া হবে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, "সড়কের দুই পাশে গাছ লাগানো হবে এবং গাছ বিক্রি করে প্রাপ্ত অর্থ গ্রাম পুলিশ সদস্যদের মধ্যে বিতরণ করা হবে।"
প্রধানমন্ত্রী বলেন, "একটি নিরাপদ ইউনিয়ন গড়ে তুলতে কার্যকর স্থানীয় প্রশাসন, দায়িত্বশীল গ্রাম পুলিশ এবং সচেতন জনগণের সমন্বিত ভূমিকা প্রয়োজন।" তিনি প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করার নির্দেশনা দেন।
তিনি আরও বলেন, "সামাজিক মূল্যবোধ পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হলে অপরাধের মাত্রা কমে আসবে।" পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখতে গ্রাম পুলিশ সদস্যদের ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, "ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সবুজ ও পরিচ্ছন্ন বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সবাইকে বৃক্ষরোপণে উৎসাহিত হতে হবে।"
মহাসমাবেশে দেশের বিভিন্ন জেলা-উপজেলা থেকে আসা প্রায় ৪১ হাজার গ্রাম পুলিশ সদস্য অংশ নেন। শেষে দেশের ৮ বিভাগ থেকে সেরা ৮ জন গ্রাম পুলিশ সদস্যকে সম্মাননা স্মারক ও অর্থ প্রদান করেন প্রধানমন্ত্রী।