জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জে তৃতীয় শ্রেণির এক মাদরাসাছাত্রীকে ধর্ষণের চেষ্টার দায়ে মো. সাইদুর মুন্সী (৪৫) নামের এক শিক্ষককে আট বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ডও দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার জামালপুর জেলা ও দায়রা জজ আদালতের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক মুহাম্মদ আবদুর রহিম এ রায় ঘোষণা করেন। সাইদুর মুন্সী স্থানীয় মদিনাতুল উলুম নূরানি মডেল মাদরাসার শিক্ষক ছিলেন এবং তিনি দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার হাতিভাঙ্গা ইউনিয়নের সাকোয়াপাড়া গ্রামের জুরাল মিস্ত্রীর ছেলে।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, শিশুটির বাবা জীবিকার তাগিদে চলতি বছরের ২০ এপ্রিল গাজীপুরের শ্রীপুরে ধান কাটার কাজে যান। এ সময় শিশুটি মাদরাসায় পড়াশোনা করছিল। অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, ২৬ এপ্রিল বেলা সাড়ে ১১টার দিকে সাইদুর মুন্সী ওই শিশুকে ডেকে নিয়ে নিজের বাড়িতে যান এবং সেখানে ধর্ষণের চেষ্টা করেন।
ঘটনার সময় ঘরের দরজায় শব্দ হলে সাইদুর মুন্সী সরে যান এবং শিশুটি কান্না করতে করতে ঘর থেকে বের হয়ে বাড়িতে চলে আসে। পরদিন শিশুটির মা ঘটনাটি তার স্বামীকে জানান। পরে ৩০ এপ্রিল শিশুটির বাবা বাড়িতে ফিরে ৩ মে দেওয়ানগঞ্জ মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
জামালপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১-এর পাবলিক প্রসিকিউটর ফজলুল হক জানান, ধর্ষণচেষ্টার মামলায় পাঁচজন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ ও শুনানি শেষে আদালত সাইদুর মুন্সীকে আট বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন এবং দুই লাখ টাকা জরিমানা করার নির্দেশ দিয়েছেন। জরিমানার অর্থ ভুক্তভোগীকে দেওয়ার নির্দেশও আদালত দিয়েছেন।