শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর, ২০২৬
ব্রেকিং
স্বাস্থ্য

মস্তিষ্কের বার্ধক্য রোধে স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের গুরুত্ব

বয়স বাড়লে মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতায় পরিবর্তন আসে। স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন মস্তিষ্কের সুস্থতা রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ।

মস্তিষ্কের বার্ধক্য রোধে স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের গুরুত্ব

বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতায় পরিবর্তন আসা স্বাভাবিক। স্মৃতিশক্তি ও মনোযোগের ক্ষেত্রে ধীরগতি দেখা দিতে পারে, যা বিজ্ঞানীদের ভাষায় মস্তিষ্কের বার্ধক্য বা ব্রেন এজিং হিসেবে পরিচিত।

প্রযুক্তির সহায়তায় মস্তিষ্কের বার্ধক্য প্রক্রিয়াকে ধীর করা সম্ভব কিনা, তা নিয়ে আলোচনা চলছে। গবেষকরা জানান, স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন মস্তিষ্কের বয়স বাড়ার গতিকে কমিয়ে দিতে পারে। তবে বয়স বাড়ার সঙ্গে মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা কমে যাওয়া অবধারিত নয়।

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার লোমা লিন্ডা শহর গবেষণার জন্য বিশেষভাবে পরিচিত। এখানে সেভেন্থ-ডে অ্যাডভেন্টিস্ট খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের সদস্যরা স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের মাধ্যমে দীর্ঘ ও সুস্থ জীবন কাটান। লোমা লিন্ডা বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসক গ্যারি ফ্রেজার জানান, ওই সম্প্রদায়ের নারীরা সাধারণ মানুষের তুলনায় চার থেকে পাঁচ বছর এবং পুরুষেরা প্রায় সাত বছর বেশি সুস্থ জীবন কাটান।

গবেষকরা আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে মস্তিষ্কের বয়স নির্ণয় এবং ভবিষ্যৎ অবনতির ঝুঁকি শনাক্ত করার চেষ্টা করছেন। ইউনিভার্সিটি অব সাউদার্ন ক্যালিফোর্নিয়ার অধ্যাপক আন্দ্রেই ইরিমিয়া কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্যে একটি মডেল তৈরি করেছেন যা মস্তিষ্কের স্বাভাবিক বার্ধক্য এবং রোগের কারণে সৃষ্ট পরিবর্তন শনাক্ত করতে সক্ষম।

বিবিসির প্রতিবেদক লারা লিউইংটনের মস্তিষ্কের এমআরআই স্ক্যান বিশ্লেষণ করে অধ্যাপক ইরিমিয়া জানান, তার মস্তিষ্কের বয়স প্রকৃত বয়সের তুলনায় আট মাস বেশি। তবে এই পরীক্ষায় ত্রুটির সম্ভাবনা দুই বছর পর্যন্ত থাকতে পারে।

মস্তিষ্ক সুস্থ রাখতে জীবনযাপনে কিছু পরিবর্তন জরুরি। খাবার, ঘুম, শরীরচর্চা, মানসিক উদ্দীপনা ও সামাজিক সম্পর্ক মস্তিষ্কের দীর্ঘমেয়াদি সুস্থতায় ভূমিকা রাখতে পারে। ড্যান বুয়েটনারের ‘দ্য ব্লু জোনস’ বইয়ে দীর্ঘায়ু মানুষের জীবনযাপনের নানা দিক তুলে ধরা হয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা জানান, স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের পাশাপাশি নিয়মিত শারীরিক কার্যকলাপ মস্তিষ্কের স্বাস্থ্যেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত খাবার ও অস্বাস্থ্যকর চর্বির পরিবর্তে শাকসবজি, ফলমূল এবং পূর্ণশস্য খাদ্য তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা উচিত।

বিজ্ঞাপন