দেশের আদালতে বিচারের অপেক্ষায় সাড়ে ৪৮ লাখের বেশি মামলা রয়েছে, যা ইতিহাসের সর্বোচ্চ। চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে নতুন করে জমা পড়েছে ১ লাখ ১২ হাজার মামলা। বিচারকের সংখ্যা মাত্র ২ হাজার ৩শ, যার মধ্যে প্রধান বিচারপতিসহ সর্বোচ্চ আদালতে মাত্র ৫ জন বিচারপতি আছেন।
সুপ্রিমকোর্টের হিসাব অনুযায়ী, গত জুন মাস পর্যন্ত দেশের আদালতে বিচারাধীন মামলার সংখ্যা ৪৮ লাখ ৫৫ হাজার ২৪৪টি। এর মধ্যে বিচারিক আদালতে রয়েছে ৪১ লাখ ৪২ হাজার মামলা এবং হাইকোর্টে অপেক্ষমান ৬ লাখ ৭৪ হাজার ৫০০টি মামলা। আপিল বিভাগের জন্য রয়েছে ৩৮ হাজার ৬৫১টি মামলা, যেখানে বিচারপতির সংখ্যা মাত্র ৫ জন।
আইনজীবীরা জানান, বিচারক সংকটের কারণে আপিল বিভাগে নিষ্পত্তির জন্য ৮-৯ বছর আগের আবেদনও কার্যতালিকায় আসছে। চূড়ান্ত আপিলের নিষ্পত্তি না হওয়ায় বহু আসামি দশক ধরে আটকে রয়েছে। ফৌজদারি আইন বিশেষজ্ঞ এস এম শাহজাহান বলেন, ‘আমার এক মক্কেল জেলখানা থেকে আমাকে টেলিফোন করে বলেছেন, আমাকে খালাস করে আমার খালাসের কাগজ কবরে ঝুলিয়ে দিয়েন।’
তিনি আরও উল্লেখ করেন, আহসান উল্লাহ মাস্টার হত্যা মামলায় ২২ বছর ধরে আসামিরা কনডেম সেলে রয়েছেন। বিশেষ বেঞ্চ গঠন এবং প্রয়োজনীয় বিচারপতি নিয়োগের দাবি উঠেছে। জ্যেষ্ঠ আইনজীবীরা ৩টি আপিল বেঞ্চ গঠন এবং স্থায়ী কিংবা অস্থায়ী বিচারপতি নিয়োগের জন্য সরকারের কাছে আহ্বান জানিয়েছেন।
সুপ্রিম কোর্টবার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মাহবুব উদ্দিন খোকন বলেন, ‘সুপ্রিম কোর্টকে কার্যকর করার জন্য অন্তত ৫ জন বিচারপতি নিয়োগ দেওয়া উচিত। বিচার বিভাগ রাষ্ট্রের অন্যতম অঙ্গ। এটি স্থবির হলে রাষ্ট্রেও স্থবিরতা আসবে।’
সংবিধান অনুযায়ী, হাইকোর্ট ও আপিল বিভাগে বিচারপতির নির্দিষ্ট সংখ্যা নেই। রাষ্ট্রপতি প্রয়োজনমতো বিচারক নিয়োগ দিতে পারেন বলে ৯৪ অনুচ্ছেদে উল্লেখ করা হয়েছে।