শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
ব্রেকিং
জাতীয়

চাঁদপুরে আইনজীবীদের আদালত বর্জন, বিচারপ্রার্থীদের ভোগান্তি

চাঁদপুরে আইনজীবীদের আদালত বর্জনের ফলে বিচারপ্রার্থীরা ভোগান্তিতে পড়েছেন।

চাঁদপুরে আইনজীবীদের আদালত বর্জন, বিচারপ্রার্থীদের ভোগান্তি

চাঁদপুরে পেশাগত সমন্বয়হীনতা ও অসন্তোষের অভিযোগে টানা দ্বিতীয় দিনের মতো তিনটি আদালত বর্জন করেছেন জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্যরা। বর্জন করা আদালতগুলো হলো—চাঁদপুর চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত, সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-১ এবং সদর সিনিয়র সহকারী জজ আদালত।

আইনজীবীদের অনুপস্থিতির কারণে নির্ধারিত দিনে মামলার শুনানি না হওয়ায় দূরদূরান্ত থেকে আসা বিচারপ্রার্থীরা চরম ভোগান্তির মুখে পড়েছেন। কচুয়া থেকে আসা এক বিচারপ্রার্থী জানান, তার একটি দেওয়ানি মামলার শুনানির তারিখ ছিল, কিন্তু আদালত বর্জনের কারণে শুনানি হয়নি। এতে তিনি ন্যায়বিচার পাওয়ার বিষয়ে হতাশা প্রকাশ করেন।

আরেক বিচারপ্রার্থী ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, গত দুই বছর ধরে তার দেওয়ানি মামলা চলমান, কিন্তু বিচারক অনুপস্থিত এবং আইনজীবীদের আদালত বর্জনের কারণে নির্ধারিত দিনে মামলার শুনানি হয়নি। এতে তিনি ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন বলে দাবি করেন।

চাঁদপুর জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি মো. শামসুল ইসলাম মন্টু অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে বার ও বেঞ্চের মধ্যে সমন্বয়হীনতার কারণে অনেক আইনজীবী হয়রানির শিকার হচ্ছেন। তিনি জানান, চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের একরোখা আচরণ এবং আইনজীবীদের অভিযোগ আমলে না নেওয়ার কারণে আদালত বর্জনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, বার ও বেঞ্চের মধ্যে সমন্বয়হীনতা নিয়ে একাধিকবার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের সঙ্গে আলোচনা করা হয়েছে, কিন্তু কার্যকর কোনো সমাধান হয়নি। আইনজীবী ও বিচারপ্রার্থীদের স্বার্থে আদালত বর্জনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট কোহিনূর বেগম জানান, বিষয়গুলো সমাধানের জন্য তারা একাধিকবার সংশ্লিষ্ট আদালতের সঙ্গে আলোচনা করার চেষ্টা করেছেন, তবে কোনো ফল হয়নি।

গত ৯ সেপ্টেম্বর জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সভায় প্রায় ৪০০ আইনজীবী উপস্থিত ছিলেন এবং ৩৫ থেকে ৪০ জন আইনজীবী বক্তব্য দেন। সভায় আদালতে আইনজীবীদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়।

অ্যাডভোকেট কোহিনূর বেগম আরও জানান, আদালত বর্জন কর্মসূচি আপাতত চলবে এবং পরবর্তী সাধারণ সভায় এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। অন্যদিকে, আদালত বর্জনের আইনগত ভিত্তি নেই বলে দাবি করেছে চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত। এ বিষয়ে সুপ্রিম কোর্ট ও আইন মন্ত্রণালয়ে লিখিত অভিযোগ পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।

বিজ্ঞাপন