গার্মেন্টস পণ্যের রপ্তানি বাড়লেও বাংলাদেশের পোশাকশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি প্রতিযোগী দেশগুলোর তুলনায় অনেক কম রয়েছে। বর্তমানে দেশের শ্রমিকদের মাসিক মজুরি ১০২ ডলার, যা চীনের ২৯৪ ডলার এবং ভিয়েতনামের ১৬৩ ডলারের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম।
বিশ্লেষকরা মনে করেন, শ্রমিকদের ৩০ হাজার টাকা মজুরি দাবি কতটা যৌক্তিক তা পর্যালোচনা করা প্রয়োজন। তাদের মতে, মজুরি নির্ধারণের ক্ষেত্রে আয় ও ব্যয়ের সাথে সামঞ্জস্য রাখা অত্যন্ত জরুরি।
গত তিন বছর আগে ১২ হাজার ৫০০ টাকা ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণ করা হলেও, মূল্যস্ফীতির কারণে শ্রমিকদের ক্রয়ক্ষমতা কমে গেছে। সেপ্টেম্বর পর্যন্ত টানা ৫৬ মাস মজুরি বৃদ্ধির হার মূল্যস্ফীতির নিচে ছিল।
গার্মেন্টস শ্রমিক ঐক্য পরিষদের চেয়ারম্যান তৌহিদুর রহমান বলেন, 'মজুরি নির্ধারণে আয়-ব্যয়ের সাথে সামঞ্জস্য রাখাই সবচেয়ে বেশি জরুরি।'
মজুরি বোর্ডের শ্রমিক প্রতিনিধি বাবুল আখতার জানান, 'পোশাক শ্রমিকদের আন্দোলনের প্রেক্ষিতে সরকার নিম্নতম মজুরি বোর্ড গঠন করেছে। শ্রমিকদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন এবং চলমান অর্থনৈতিক সংকট কাটিয়ে উঠতে ইতিবাচক উদ্যোগ নেওয়া হবে।'
ইনস্টিটিউট অব লেবার স্টাডিজের নির্বাহী পরিচালক সৈয়দ সুলতান উদ্দিন আহম্মদ বলেন, 'দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, উচ্চ মূল্যস্ফীতি এবং শ্রমিক অসন্তোষের প্রেক্ষাপটে একটি ভারসাম্যপূর্ণ ও যৌক্তিক মজুরি কাঠামো নির্ধারণের ওপর জোর দিতে হবে।'
বিশ্লেষকরা কেবল আবেগের বশবর্তী হয়ে বা একতরফা কোনো সিদ্ধান্ত না নিয়ে দেশের অর্থনীতি ও শিল্প খাতের সক্ষমতাকে গুরুত্ব দিয়ে মজুরি ঠিক করার পরামর্শ দেন।