কুমিল্লা পুলিশ লাইন্স সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চার ছাত্রী স্বাধীনভাবে বাঁচতে ও উপার্জনের আশায় বাড়ি ছেড়ে চলে গিয়েছিল। গত ১২ অক্টোবর সকালে স্কুলে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হয়ে ক্লাসে উপস্থিত হয়নি তারা।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ওই দিন বিকেলে স্কুল কর্তৃপক্ষ বিষয়টি জানতে পেরে পুলিশকে অবহিত করে। এরপর প্রধান শিক্ষকের নির্দেশনায় থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ও কোতোয়ালি থানা পুলিশ তাদের উদ্ধারের জন্য অনুসন্ধান শুরু করে।
পুলিশ বিভিন্ন স্থানের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে এবং নিখোঁজ শিক্ষার্থীদের ছবি ও তথ্য দেশের বিভিন্ন থানায় পাঠায়। ১২ অক্টোবর দিবাগত রাত ২টার দিকে চুনারুঘাট থানার পুলিশ হবিগঞ্জের চুনারুঘাট এলাকা থেকে তাদের উদ্ধার করে।
উদ্ধার হওয়া শিক্ষার্থীদের বয়স ৮ থেকে ১২ বছরের মধ্যে। তাদের মধ্যে তিনজন পঞ্চম শ্রেণির এবং একজন তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী। পুলিশ জানায়, তারা পড়াশোনার প্রতি আগ্রহী ছিল না এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপরিচিত তরুণদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখত।
শিক্ষার্থীরা জানিয়েছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রভাবে স্বাধীনভাবে জীবনযাপন ও উপার্জনের উদ্দেশ্যে বাড়ি ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেয় তারা। এ সময় তারা একটি ব্যবহৃত অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন ও স্বর্ণালংকার সঙ্গে নেয়।
কুমিল্লার টাউন হল সুপার মার্কেটে মোবাইল ফোনটি চার হাজার টাকায় বিক্রি করে তারা। পরে ওই টাকা নিয়ে প্রথমে ঢাকায় যায়, কিন্তু সেখানে পরিকল্পনা অনুযায়ী কিছু করতে না পেরে চুনারুঘাটের উদ্দেশ্যে রওনা হয়।
জেলা গোয়েন্দা শাখা উদ্ধারকৃত মোবাইল ফোন ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে থাকা স্বর্ণালংকার উদ্ধার করেছে। পরে চার শিক্ষার্থীকে পরিবারের জিম্মায় হস্তান্তর করা হয় এবং তাদের বিষয়ে আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।