বুধবার, ০৭ অক্টোবর, ২০২৬
ব্রেকিং
জাতীয়

চট্টগ্রাম বন্দরে বিদেশি অপারেটরদের নিয়োগ: বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু

চট্টগ্রাম বন্দরে বিদেশি অপারেটর নিয়োগ নিয়ে বিতর্ক চলছে। শ্রমিক সংগঠনগুলোর উদ্বেগ ও সরকারের যুক্তি তুলে ধরা হয়েছে।

চট্টগ্রাম বন্দরে বিদেশি অপারেটরদের নিয়োগ: বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু

চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর বাংলাদেশের অর্থনীতির মূল কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে বিবেচিত। দেশের বৈদেশিক বাণিজ্যের প্রায় ৭০ শতাংশ পরিচালিত হয় এই বন্দরের মাধ্যমে। हाल ही में, চট্টগ্রাম বন্দরের টার্মিনালগুলোতে বিদেশি অপারেটর নিয়োগের বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে।

সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, বিদেশি বিনিয়োগ ও উন্নত প্রযুক্তির মাধ্যমে বন্দরের দক্ষতা বৃদ্ধি পাবে। কিন্তু শ্রমিক সংগঠনগুলোর দাবি, এই পদক্ষেপ দেশের অর্থনৈতিক সার্বভৌমত্বকে ক্ষুণ্ন করতে পারে এবং স্থানীয় কর্মসংস্থানকে ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে।

বর্তমানে চট্টগ্রাম বন্দরে চারটি প্রধান কনটেইনার টার্মিনাল রয়েছে, যার মধ্যে নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) অন্যতম। ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে পতেঙ্গা টার্মিনাল সৌদি আরবের ‘রেড সি গেটওয়ে টার্মিনাল ইন্টারন্যাশনাল’ এর হাতে হস্তান্তর করা হয়।

এছাড়া, সুইজারল্যান্ডের ‘মেডলগ’ পানগাঁও আইসিডি পরিচালনার দায়িত্ব পেয়েছে, এবং ডেনমার্কের ‘এপিএম টার্মিনালস’ লালদিয়ার চরের দায়িত্ব নিতে যাচ্ছে। সম্প্রতি, দুবাইভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ‘ডিপি ওয়ার্ল্ড’কে ১৫ বছরের জন্য এনসিটির আধুনিকায়ন ও পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়ার প্রস্তাব অনুমোদন হয়েছে।

সরকারের যুক্তি হলো, আন্তর্জাতিক অপারেটররা বন্দরে অটোমেশন ও আধুনিক প্রযুক্তি নিয়ে আসবে, যা কার্যক্রমের গতি বাড়াবে। তবে বিরোধী পক্ষের দাবি, দেশীয় প্রতিষ্ঠানগুলোও ভালো প্রস্তাব দিতে পারতো এবং বিদেশি নিয়োগের ফলে দেশের রাজস্ব ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ ও অন্যান্য শ্রমিক সংগঠন এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আন্দোলন শুরু করেছে। তাদের উদ্বেগের মূল কারণ হলো, বিদেশি অপারেটরদের নিয়োগের ফলে স্থানীয় শ্রমিকদের চাকরি হারানোর আশঙ্কা রয়েছে।

শ্রমিক নেতারা দাবি করেছেন, সরকারের উচিত ছিল এই ধরনের গুরুত্বপূর্ণ চুক্তির আগে একটি স্বচ্ছ আর্থিক ও কারিগরি মূল্যায়ন জনগণের সামনে উপস্থাপন করা।

সরকারের জন্য এখন চ্যালেঞ্জ হলো, চট্টগ্রাম বন্দরের আধুনিকায়ন নিশ্চিত করা, যাতে দেশের অর্থনৈতিক সার্বভৌমত্ব ও শ্রমিকদের স্বার্থ রক্ষা করা যায়।

বিজ্ঞাপন