মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর, ২০২৬
ব্রেকিং
খেলাধুলা

মেসির ফুটবল যাত্রার সমাপ্তি: দুই দশকের ইতিহাস

মেসির ফুটবল ক্যারিয়ার শেষ হচ্ছে, দুই দশকের রূপকথার ইতি ঘটছে।

মেসির ফুটবল যাত্রার সমাপ্তি: দুই দশকের ইতিহাস

২০০৪ সালের ১৬ অক্টোবর কাতালনিয়ায় ১৭ বছর বয়সী এক কিশোর বদলি হিসেবে মাঠে নামেন, যার নাম লিওনেল মেসি। ফুটবল বিশ্ব তখন জানতো না যে, ইতিহাসের অন্যতম রূপকথা রচিত হতে যাচ্ছে। ২০০৫ সালে আর্জেন্টিনার জার্সিতে তার অভিষেক ঘটে, যেখানে মাত্র দুই মিনিটের মধ্যে তিনি একটি অপ্রত্যাশিত লাল কার্ড পান।

মেসির ক্যারিয়ার শুরু থেকেই বোঝা গিয়েছিল, তার ভবিতব্য হবে আলো আর আঁধারের গভীর টানাপোড়েন। পেপ গার্দিওলার অধীনে আধুনিক ফুটবলের মানচিত্র পাল্টে দেয়ার পর, ২০০৮ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত তিনি অতিমানবীয় ছন্দে খেলেছিলেন। ২০১২ সালে একক ক্যালেন্ডারে ৯১ গোল করে ফুটবল পরিসংখ্যানের সংজ্ঞা নতুন করে লিখেছিলেন।

তবে তার সাফল্যের পাশাপাশি গভীর ট্র্যাজেডির মেঘও জমতে থাকে। ক্লাব ফুটবলে সব জয় করলেও মাতৃভূমির জার্সিতে একের পর এক হৃদয়ভাঙা মুহূর্ত তার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বেদনাদায়ক অধ্যায় হয়ে দাঁড়ায়। ২০১৪ বিশ্বকাপের ফাইনালে জার্মানির কাছে মারাকানায় হার এবং পরবর্তী কোপা আমেরিকার ফাইনালে টাইব্রেকারে পরাজয় তাকে চূড়ান্ত হতাশায় ফেলে দেয়।

২০১৬ সালে জাতীয় দল থেকে অবসরের ঘোষণা ছিল আধুনিক ক্রীড়া ইতিহাসের অন্যতম বিষাদময় দিন। তবে পতনের অতল গহ্বরই মেসিকে অপ্রতিরোধ্য করে তোলে। ২০২১ সালে কোপা আমেরিকা জয় তার দীর্ঘ আন্তর্জাতিক শিরোপা খরা ঘুচিয়ে দিয়েছিল।

২০২২ সালের ১৮ ডিসেম্বর লুসাইলের মহাকাব্যিক ফাইনালে ফ্রান্সকে হারিয়ে বিশ্বকাপ ট্রফি উঁচিয়ে ধরা ছিল ফুটবলের সমস্ত বিতর্কের চূড়ান্ত সমাপ্তি। যে কাপের জন্য তিনি আজীবন অশ্রু বিসর্জন দিয়েছেন, তা অবশেষে ধরা দেয় তার দু’হাতে।

সময়ের কাঁটা কারও জন্য থেমে থাকে না। বার্সেলোনার ক্যাম্প ন্যু থেকে প্যারিস, কিংবা মায়ামিতে, মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) বেনিনের বিপক্ষে ম্যাচটি দাঁড়িয়ে আছে এক শান্ত বিদায়মুহূর্ত হিসেবে। এখানে আর কোনো কিছু প্রমাণ করার তাড়া নেই, নেই কোনো পদক জয়ের চাপ।

আজ কেবলই এক নীরব কৃতজ্ঞতার সুর, যেখানে গ্যালারির প্রতিটা করতালি স্মরণ করিয়ে দেবে দুই দশকের এক অবিস্মরণীয় পথচলাকে। বল পায়ে বাঁ পায়ের সেই বাঁক ফুটবলের ক্যানভাসে অমর হয়ে থাকবে চিরকাল।

বিজ্ঞাপন