কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহারের ক্ষেত্রে বৈশ্বিক নীতিমালা ও মানদণ্ড তৈরির আন্তর্জাতিক উদ্যোগে নেতৃত্ব দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহাম। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে দেওয়া প্রথম ভাষণে তিনি বলেন, এআই স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে বড় পরিবর্তন আনতে পারে, তবে এটি নতুন ধরনের ঝুঁকিও তৈরি করছে।
গত জুলাইয়ে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নেওয়ার পর জাতিসংঘে বার্নহামের এটি ছিল প্রথম ভাষণ। তিনি এআইকে বর্তমান বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তি হিসেবে উল্লেখ করেন। স্বাস্থ্যসেবা ও শিক্ষাক্ষেত্রে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনতে সক্ষম এআই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির প্রধান চালিকাশক্তি হতে পারে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
বার্নহাম এআইয়ের ঝুঁকির বিষয়টিও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, এ প্রযুক্তি মানুষের জীবন ও কাজের ধরনে বড় পরিবর্তন আনতে পারে এবং ঝুঁকির মাত্রা বাড়িয়ে দিতে পারে। তিনি বিশেষজ্ঞদের সতর্কবার্তা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করার আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, ‘এআই আমাদের জীবনযাপন ও কাজের ধরনেও পরিবর্তন আনবে। আমরা সবাই সতর্কবার্তাগুলো শুনেছি, আর সেগুলো আমাদের গুরুত্বের সঙ্গে নিতে হবে।’
বার্নহাম উল্লেখ করেন, এআইয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তি নিয়ে মৌলিক সিদ্ধান্তগুলো অনিশ্চয়তার ওপর ছেড়ে দেওয়া উচিত নয়। তিনি বলেন, ‘এসব সিদ্ধান্ত নিতে হবে নির্বাচিত সরকারের মাধ্যমে, যারা জনগণের স্বার্থে কাজ করে।’
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নতুন এআই প্রতিরক্ষা অংশীদারিত্বের ঘোষণাও দেন বার্নহাম। এই উদ্যোগের লক্ষ্য হলো সমুদ্রপথ, আকাশসীমা ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর বিরুদ্ধে সম্ভাব্য হুমকি শনাক্ত ও মোকাবিলা করা।
তিনি বলেন, আগামী বছর যুক্তরাজ্য 'জি২০'-এর সভাপতিত্ব গ্রহণ করবে এবং এআইকে অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার হিসেবে রাখার ঘোষণা দেন। ২০২৭ সালে যুক্তরাজ্যের জি২০ সভাপতিত্বের কেন্দ্রে থাকবে এআই।
বার্নহাম বলেন, ‘আমরা একটি অভিন্ন বৈশ্বিক নীতি ও মানদণ্ডে পৌঁছানোর চেষ্টা করব। এর মাধ্যমে প্রয়োজনীয় স্বচ্ছতা ও প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করা হবে।’
যুক্তরাজ্যের এই উদ্যোগ এমন এক সময়ে সামনে এলো, যখন এআইয়ের দ্রুত বিস্তার নিয়ে প্রযুক্তিগত অগ্রগতির পাশাপাশি নিরাপত্তা, কর্মসংস্থান, গোপনীয়তা ও নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিতর্ক বাড়ছে।