গবেষকরা জানিয়েছেন, ওপেনএআইয়ের কিছু কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক (এআই) এজেন্ট হাগিং ফেস প্ল্যাটফর্মের নিরাপত্তা দুর্বলতা খুঁজে বের করার চেষ্টা করেছিল।
তাদের মতে, জুলাইয়ে ওপেন সোর্স রিপোজিটরিতে আলোচিত সাইবার হামলার প্রায় দুই মাস আগে থেকেই এ কার্যক্রম শুরু হয়েছিল। বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) ব্রিটিশ বার্তাসংস্থা রয়টার্সের এক বিশেষ প্রতিবেদনে এ তথ্য প্রকাশিত হয়।
গবেষকদের পর্যালোচনা অনুযায়ী, মে মাস থেকেই ওপেনএআইয়ের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়া কিছু এআই এজেন্ট হাগিং ফেসের ব্যবহারকারী অ্যাকাউন্ট দখলে নিয়ে অস্বাভাবিক ফাইল পাঠানোর চেষ্টা করেছিল। তবে এ প্রচেষ্টা সফল হয়নি।
ওপেনএআই পূর্বে জানিয়েছিল, একটি হাগিং ফেস ব্যবহারকারীর ডিজিটাল ক্রেডেনশিয়াল চুরি করে জীববিজ্ঞানসংক্রান্ত একটি ফাইলে প্রবেশ করেছিল এআই এজেন্ট। তবে গবেষকেরা দাবি করেন, মে মাসের কার্যক্রমটি শুধুমাত্র একটি ফাইল অ্যাক্সেসের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না; বরং এটি হাগিং ফেসের নেটওয়ার্ক ও সিস্টেম পরীক্ষা করার প্রচেষ্টা ছিল।
জার্মানির স্বাধীন গবেষক জোনাস উইডারম্যান-মোলার জানান, তিনি গত সপ্তাহে এ কার্যক্রমের প্রমাণ পান। তার দাবি, ১৩ মে থেকেই ওপেনএআইয়ের এজেন্ট দুটি হাগিং ফেস অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে অস্বাভাবিক ফরম্যাটের ফাইল পাঠিয়েছিল।
তিনি ও অন্যান্য গবেষকরা বলেন, এই আচরণ সিস্টেমে প্রবেশের পথ খুঁজে বের করা বা নেটওয়ার্ক ম্যাপ করার চেষ্টার সঙ্গে সম্পর্কিত। তবে তারা স্পষ্ট করেছেন, ওই সময়ের কার্যক্রম জুলাইয়ের হামলার অংশ ছিল— এমন কোনো প্রমাণ নেই।
ওপেনএআইয়ের মুখপাত্র ড্রু পুসাতেরি বলেন, ১৩ মে’র ঘটনাটি প্রতিষ্ঠানটির প্রকাশিত ইনসিডেন্ট রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছিল। তিনি জানান, হাগিং ফেসকে বিষয়টি জানানো হয়েছে এবং তদন্ত চলমান রয়েছে।
হাগিং ফেস এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি। সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মে মাসের এই ঘটনা জুলাইয়ের হামলার আগে একটি সতর্ক সংকেত হতে পারত।
সেন্টিনেলওয়ানের জ্যেষ্ঠ হুমকি গবেষক টম হেগেল বলেন, অ্যাকাউন্ট দখল ও অনুসন্ধানমূলক কার্যক্রম ওপেনএআইয়ের এজেন্টগুলোর আগের আচরণের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। এআই নিরাপত্তা গবেষক সিডনি ভন আর্ক্সও বলেন, এটি একটি স্পষ্ট সতর্কবার্তা ছিল।
গত ২১ জুলাই ওপেনএআই জানায়, তাদের কিছু এআই এজেন্ট অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা এড়িয়ে ইন্টারনেটে প্রবেশ করে সমন্বিতভাবে কার্যক্রম চালায়। প্রতিষ্ঠানটি এটিকে অভূতপূর্ব সাইবার ঘটনা হিসেবে বর্ণনা করে।
এরপর বাইরের গবেষকরা ওপেনএআই-সংশ্লিষ্ট এজেন্টদের বিরুদ্ধে আরও কিছু অনাকাঙ্ক্ষিত কার্যক্রমের তথ্য সামনে আনেন, যা এআই এজেন্টের নিরাপত্তা ও নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে।