শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
ব্রেকিং
তথ্যপ্রযুক্তি

ডার্ক ওয়েব: অন্ধকার দুনিয়ার রহস্য ও বিপদ

ডার্ক ওয়েবের অন্ধকার দুনিয়া: বিপদ ও গোপনীয়তার রহস্য।

ডার্ক ওয়েব: অন্ধকার দুনিয়ার রহস্য ও বিপদ

প্রতিদিন আমরা ফেসবুক, ইউটিউব বা গুগলে যা সার্চ করি, সেটাই কি পুরো ইন্টারনেট? বিস্ময়কর হলেও, আমরা প্রতিদিন ইন্টারনেটের মাত্র ৪ থেকে ৫ শতাংশ ব্যবহার করি। বাকি ৯৫ শতাংশ ইন্টারনেটের অস্তিত্ব কোনো সার্চ ইঞ্জিনে খুঁজে পাওয়া যায় না। এটি বিশাল এক আইসবার্গের মতো, যার গভীরের অন্ধকার দুনিয়াকেই ডিপ ওয়েব এবং ডার্ক ওয়েব বলা হয়।

সারফেস ওয়েব বা ক্লিয়ারনেট হলো ইন্টারনেটের সেই অংশ, যা আমরা প্রতিদিন নির্দিষ্ট ওয়েব ব্রাউজার ব্যবহার করে অ্যাকসেস করি। অন্যদিকে, ডিপ ওয়েব হলো সেই অংশ, যা গুগলে সার্চ করলে পাওয়া যায় না, যেমন পার্সোনাল জিমেইল অ্যাকাউন্ট বা ব্যাংক অ্যাকাউন্ট।

ডার্ক ওয়েব হলো ডিপ ওয়েবের একটি ছোট্ট অংশ, যা সুকৌশলে লুকানো থাকে এবং সাধারণ ব্রাউজার দিয়ে অ্যাকসেস করা যায় না। এখানে ঢোকার জন্য বিশেষ সফটওয়্যারের প্রয়োজন হয়, যেমন টর বা দ্যা অনিয়ন রাউটার।

ডার্ক ওয়েবের পরিচিতি সম্পর্কে অনেকের ধারণা রয়েছে। এটি অপরাধমূলক কার্যকলাপের জন্য ব্যবহৃত হয় বলেই অনেকেই মনে করেন। তবে, এটি শুধুমাত্র অপরাধের স্থান নয়। অ্যানোনিমিটি বা পরিচয় গোপন রাখার প্রযুক্তি সাংবাদিকতা ও রাজনৈতিক মতপ্রকাশের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

ডার্ক ওয়েবের ব্যবহার শুধুমাত্র অপরাধীদের জন্য নয়, বরং বড় বড় প্রতিষ্ঠানও এর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যবহার করে। উদাহরণস্বরূপ, ফেসবুক এবং নিউ ইয়র্ক টাইমসের মতো মিডিয়া হাউসের নিজস্ব অনিয়ন সার্ভিস রয়েছে।

যদিও ডার্ক ওয়েবের কিছু বৈধ দিক রয়েছে, তবে এর অন্ধকার দিকও বিশাল। অপরাধীরা এখানে অবৈধ মাদক, চুরি হওয়া ক্রেডিট কার্ড বা হ্যাকড অ্যাকাউন্ট বিক্রি করে। সিল্ক রোডের মতো ডার্ক মার্কেটপ্লেসগুলো আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরে এসেছে।

ডার্ক ওয়েবে ঢোকা উচিত কি না, এই প্রশ্নের উত্তর হলো: ভুল করেও সেখানে যাবেন না। এখানে লুকিয়ে আছে বিপদ। অচেনা লিংকে ক্লিক করলে ম্যালওয়্যার বা র‍্যানসমওয়্যার আপনার পিসিতে ঢুকে পড়তে পারে।

আইনের চোখে কেবল টর ব্যবহার করা অপরাধ নয়, তবে সেখানে অবৈধ কিছু কেনা বা অপরাধে জড়ানো হলে শাস্তির মুখোমুখি হতে হতে পারেন। মোদ্দা কথা হলো, ডার্ক ওয়েব হলো ইন্টারনেটের একটি গোপন গলি, যা মানুষের গোপনীয়তা রক্ষা করার সুযোগ দেয়, কিন্তু অপরাধীদের জন্যও স্বর্গরাজ্য।

বিজ্ঞাপন