মার্কিন সিনেটর ক্রিস ভ্যান হোলেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে ‘যুদ্ধাপরাধী’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে ‘মিথ্যার পর মিথ্যা বলেন’ বলেও অভিযোগ করেন।
ভ্যান হোলেন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে প্রকাশিত ভিডিও বার্তায় নেতানিয়াহুর সমালোচনা করেন। তিনি গাজায় সংঘটিত কর্মকাণ্ড এবং পশ্চিম তীরে মার্কিন নাগরিকদের হত্যার ঘটনায় জবাবদিহি নিশ্চিত না করার অভিযোগ তুলেছেন।
তিনি বলেন, ‘তিনি একের পর এক মিথ্যা বলতে থাকেন।’ ভ্যান হোলেন আরও গুরুতর অভিযোগ তুলে বলেন, ‘তিনি একজন পলাতক যুদ্ধাপরাধী। গাজায় সংঘটিত অপরাধ এবং গাজা ধ্বংসের ঘটনায় তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা রয়েছে।’
আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) জারি করা গ্রেফতারি পরোয়ানার প্রসঙ্গও টেনে আনেন তিনি। ২০২৪ সালের নভেম্বরে আইসিসি নেতানিয়াহু ও তৎকালীন ইসরায়েলি প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্টের বিরুদ্ধে গাজা যুদ্ধের সঙ্গে সম্পর্কিত যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে।
ভ্যান হোলেন পশ্চিম তীরে সহিংসতায় নিহত মার্কিন নাগরিকদের বিষয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি অভিযোগ করেন, ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারী বা নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে নিহত মার্কিন নাগরিকদের ঘটনায় জবাবদিহি ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে নেতানিয়াহুর কোনো ব্যবস্থা নেই।
তিনি বলেন, ‘নেতানিয়াহু ভাগ্যবান যে যুক্তরাষ্ট্র তাকে আমাদের সীমান্ত পার হওয়ার সুযোগ দিয়েছে। কিন্তু এতে তার মিথ্যাগুলো মুছে যায় না, তার যুদ্ধাপরাধও মুছে যায় না।’
ভ্যান হোলেনের এই মন্তব্যের আগে নেতানিয়াহু নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানিকে আক্রমণ করে একটি ভিডিও প্রকাশ করেন। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে নিজের আসন্ন বক্তব্যে মামদানি ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে সমালোচনার জবাব দেওয়ার কথা জানান নেতানিয়াহু।
পশ্চিম তীরে সহিংসতা এবং মার্কিন নাগরিকদের মৃত্যুর ঘটনা নিয়ে ভ্যান হোলেনসহ কয়েকজন মার্কিন সিনেটর আগস্টে একটি প্রস্তাব আনার উদ্যোগের কথা জানিয়েছিলেন। এতে এসব ঘটনার তদন্ত ও জবাবদিহি নিয়ে মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের কাছে প্রতিবেদন চাওয়ার কথা বলা হয়।