কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের ছেলে ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত তিন যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। অভিযুক্ত তুহিন, ফাহাদ ও কামরুল নামের এই তিন তরুণ মিলে অপ্রতিমকে বাঁশের লাঠি দিয়ে মাথায় আঘাত করে হত্যা করে।
পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান আজ রোববার একটি প্রেস ব্রিফিংয়ে জানান, অপ্রতিমের হাতে থাকা আইফোনটি ছিনিয়ে নিতে পরিকল্পনা করে তুহিন। শুক্রবার, তুহিন অপ্রতিমকে লালমাই পাহাড়ের সানন্দা এলাকায় নিয়ে যায়, যেখানে হত্যাকাণ্ড ঘটে। প্রথমে তুহিন, পরে ফাহাদ ও কামরুল পর্যায়ক্রমে অপ্রতিমের মাথায় আঘাত করে।
অপ্রতিমের বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার নিখোঁজ ডায়েরি করার পর পুলিশ তদন্ত শুরু করে। তদন্তে দেখা যায়, গ্রেপ্তারকৃত যুবকদের সাথে অপ্রতিমের যোগাযোগ ছিল এবং তিনি প্রায়ই তাদের সাথে সময় কাটাতেন। গত শুক্রবার বিকেলে আইফোন নিয়ে ছবি তুলতে গিয়ে নিখোঁজ হন অপ্রতিম।
রাত পর্যন্ত বাসায় না ফেরায় তার বাবা থানায় অভিযোগ করেন। পরদিন, শনিবার দুপুরে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে একটি ঝোপ থেকে অপ্রতিমের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
অপ্রতিম কুমিল্লার কোটবাড়ি এলাকায় বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। তার জানাজা আজ সকালে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও স্থানীয় জনগণের উপস্থিতি ছিল। জানাজা শেষে তার মরদেহ কোটবাড়ি গন্ধমতি ঈদগাহ মাঠে নিয়ে যাওয়া হয় এবং সেখানে দ্বিতীয় জানাজা শেষে কবরস্থানে দাফন করা হয়।