বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
ব্রেকিং
জাতীয়

বংশালে জবি শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার, প্রেমের বিচ্ছেদে আত্মহত্যার সন্দেহ

বংশালে জবি শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার, প্রেমের বিচ্ছেদে আত্মহত্যার সন্দেহ প্রকাশ করা হচ্ছে।

বংশালে জবি শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার, প্রেমের বিচ্ছেদে আত্মহত্যার সন্দেহ

রাজধানীর বংশাল থানাধীন চানখারপুল কায়েতটুলি এলাকার একটি মেস থেকে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) শিক্ষার্থী অনিক চন্দ্র পাল নামের এক শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রাথমিক ধারণা, প্রেমের সম্পর্কের বিচ্ছেদের কারণে তিনি আত্মহত্যা করেছেন।

নিহত অনিক চন্দ্র পাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ড্রয়িং ও পেইন্টিং বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। তার গ্রামের বাড়ি সিলেট জেলার শিবপুর উপজেলায়। বর্তমানে মরদেহ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।

ঘটনার বর্ণনায় নিহতের মেস সদস্য ও জবি শিক্ষার্থী জয় ভূঁইয়া জানান, গত সোমবার থেকে অনিকের কোনো সাড়া পাওয়া যাচ্ছিল না। মঙ্গলবার রাত ৯টা বা সাড়ে ৯টার দিকে তার এক ব্যাচমেট তাকে ফোনে না পেয়ে মেসে তার রুমে গিয়ে দেখতে বলেন। তারা দরজায় কড়া নাড়লেও কোনো সাড়া পাননি। পরে জানালার কাচ ভেঙে ভেতরে তাকিয়ে অনিককে গলায় গামছা প্যাঁচানো অবস্থায় দেখতে পান।

জয় ভূঁইয়া বলেন, ‘দরজা ভেতর থেকে বন্ধ থাকায় সন্দেহ হয়। পরে জানালার কাচ ভেঙে ভেতরে তাকিয়ে অনিককে গলায় গামছা প্যাঁচানো অবস্থায় ফ্যানের সঙ্গে ঝুলতে দেখা যায়।’ এরপর তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

সহপাঠী ও মেস সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দুই দিন আগে অনিকের সঙ্গে তার প্রেমিকার বিচ্ছেদ ঘটে। বিচ্ছেদের পর থেকে অনিকের মোবাইল ফোন বন্ধ ছিল এবং তিনি মেসে একা চুপচাপ থাকতে শুরু করেন।

ঘটনার খবর পেয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ছুটে যান বিশ্ববিদ্যালয়ের ড্রয়িং ও পেইন্টিং বিভাগের সহকারী অধ্যাপক সুবাস পাল। তিনি বলেন, ‘স্টুডেন্টরা আমাকে ঘটনা জানানোর কিছুক্ষণের মধ্যেই আমি ঢাকা মেডিকেলে পৌঁছাই। কিন্তু ততক্ষণে আমাদের স্টুডেন্ট আর বেঁচে ছিল না।’

সহকারী প্রক্টর আরও জানান, ‘আমি ওর পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করছি। পরিবারের সদস্যরা আসার পর মেডিকেল ও থানার প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে। স্বজনদের উপস্থিতিতে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।’ ঢামেক হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ (পরিদর্শক) হাবিবুর রহমান চিকিৎসকের বরাত দিয়ে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, মরদেহ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে এবং বিষয়টি সংশ্লিষ্ট থানাকে জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞাপন