রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
ব্রেকিং
অর্থনীতি

জ্বালানি সংকটে টেক্সটাইল শিল্পের উৎপাদন হ্রাস, রপ্তানি আদেশ হারানোর আশঙ্কা

জ্বালানি সংকটের কারণে টেক্সটাইল শিল্পের উৎপাদন কমেছে, রপ্তানি আদেশ হারানোর শঙ্কা দেখা দিয়েছে।

জ্বালানি সংকটে টেক্সটাইল শিল্পের উৎপাদন হ্রাস, রপ্তানি আদেশ হারানোর আশঙ্কা

গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটের কারণে দেশের টেক্সটাইল শিল্প বর্তমানে বড় ধরনের চাপে রয়েছে। গত দেড় মাসে স্পিনিং, নিটিং ও ডায়িং কারখানাগুলোর উৎপাদন সক্ষমতা ৩০ থেকে ৪০ শতাংশে নেমে এসেছে। শিল্প উদ্যোক্তাদের মতে, উৎপাদন খরচ বাড়ার পাশাপাশি সময়মতো পণ্য সরবরাহ করতে না পারায় রপ্তানি আদেশ হারানোর শঙ্কা তৈরি হয়েছে।

গাজীপুর ও আশুলিয়ার শিল্পকারখানাগুলোর জন্য প্রতিদিন ৫৫০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের প্রয়োজন, কিন্তু তিতাস মাত্র ৩০০ মিলিয়ন ঘনফুট সরবরাহ করছে। এ কারণে গ্যাসের চাপ অনেক সময় ২ পিএসআই বা তার নিচে নেমে যায়, যা স্বাভাবিক উৎপাদনের জন্য ৫ থেকে ১৫ পিএসআই প্রয়োজন।

বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিল অ্যাসোসিয়েশন (বিটিএমএ) জানায়, উৎপাদন সক্ষমতা কমে যাওয়ায় কারখানা মালিকেরা সময়মতো ব্যাংক ঋণ পরিশোধ ও শ্রমিকদের বেতন দিতে সমস্যায় পড়ছেন। বিটিএমএ-এর জ্বালানি বিষয়ক স্ট্যান্ডিং কমিটির সভাপতি রাজিব হায়দার বলেন, ‘কোনো কোনো মিলে জিরো পিএসআই, কোনো মিলে আউটলেটে ওয়ান পিএসআই আছে।’

জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিদ্যুৎ উৎপাদনে গ্যাসের বিকল্প জ্বালানির ব্যবহার বাড়াতে হবে। বিশেষজ্ঞ ইজাজ হোসেন মন্তব্য করেন, ‘উৎপাদনকে সম্পূর্ণরূপে থামিয়ে দেওয়াটা একেবারে ভুল। লং টার্ম প্লানিংয়ের অভাব রয়েছে।’

শফিকুল আলম বলেন, ‘তেলভিত্তিক উৎপাদন কিছুটা বাড়ানো উচিত এবং গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন শিল্প প্রতিষ্ঠানে দেওয়া প্রয়োজন।’ দেশীয় বস্ত্র কারখানাগুলো পোশাক কারখানাগুলোর প্রয়োজনীয় কাপড়ের বেশিরভাগ সরবরাহ করে, তাই জ্বালানি সংকট এ খাতের বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানে বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বিজ্ঞাপন