বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
ব্রেকিং
ফিচার

পাহাড়ের দুর্গম পথে তরুণের সাহসিকতার গল্প

পাহাড়ের দুর্গম পথে তরুণের সাহসিকতার গল্প।

পাহাড়ের দুর্গম পথে তরুণের সাহসিকতার গল্প

পাহাড়ের প্রতি আকর্ষণ শুধু দৃশ্যমান নয়, বরং তা অনুভব করার বিষয়। প্রকৃতির এই সৌন্দর্য উপভোগ করতে হলে, পাহাড়ের সঙ্গে একাত্ম হতে হয়।

আজ থানচি সার্কিটের কঠিন ট্রেইল অতিক্রমের দিন। গাইডের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আজকের পথ হবে আরও চ্যালেঞ্জিং। তবে স্বস্তির বিষয় হলো, কাঁধে কোনো ব্যাগ নেই। ভাত, ডিম, আলুভর্তা আর ডাল খেয়ে যাত্রা শুরু হয়।

প্রথমে ২০-৩০ মিটার লাল মাটির ঢাল বেয়ে নামতে হয়। কিন্তু দ্রুতই সামনে আসে দুর্গম ও বুনো পথ। পাহাড়ের কঠিনতা একেবারে আকস্মিকভাবে সামনে হাজির হয়।

পাহাড়ের খাড়া ঢালে নামতে গিয়ে দেখা যায়, পাথরের স্তূপে ভরা পথ। কিছু জায়গায় শরীর গলিয়ে নামতে হয়, যেখানে একজন নারী সহযাত্রী আটকে যান। তবে সবাই মিলে সহায়তা করায় সমস্যা হয়নি।

কিছু পাথর এতটাই পিচ্ছিল ছিল যে, সেগুলোর ওপর পা রাখা কঠিন হয়ে পড়ে। মাটির ঢালে পা পিছলে গেলে আঘাত পাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তাই প্রতিটি পদক্ষেপ ভেবেচিন্তে নিতে হচ্ছিল।

দীর্ঘ সময় দুর্গম পথে চলার পর কিছুটা স্বস্তি ফিরে আসে, কিন্তু পানির নিচে লুকানো পিচ্ছিল পাথরের ওপর পা পড়তেই বিপত্তি ঘটে। ভাগ্যক্রমে, ঝিরির পথে চলে আসা অবস্থায় বড় বিপদ থেকে রক্ষা পাওয়া যায়।

পাহাড়ের নানান রূপের মধ্যে দিয়ে এগিয়ে যেতে গিয়ে দেখা যায় বিশাল বিশাল পাথর, যা অতিক্রম করতে হয়। হাতের ভরসা হিসেবে একটি বাঁশের লাঠি ব্যবহার করতে হয়।

গাইডদের সহযোগিতায় পথ চলতে থাকে। কিছু জায়গায় বিকল্প পথ খুঁজে নিতে হয়। অবশেষে রোয়েনদকে পৌঁছাতে সক্ষম হন। তবে পানি প্রবাহ কম থাকায় প্রত্যাশা অনুযায়ী কিছুটা হতাশা দেখা দেয়।

ফিরতি পথেও একই ধরনের চড়াই-উতরাই পার করতে হয়। তবে একজন সহযাত্রী অসুস্থ হয়ে পড়েন, কিন্তু বাকি সহযাত্রীদের সহযোগিতায় তিনি নিরাপদে ফিরতে সক্ষম হন।

এমন পরিস্থিতি অনভ্যস্ত ট্রেকারদের জন্য অস্বাভাবিক নয়। খাবার ও বিশ্রামের সীমাবদ্ধতা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়। রোয়েনদক ট্রেক করতে সময় লেগেছিল প্রায় আট ঘণ্টা।

সাওডং পাড়ায় ফিরে এসে আবারও একটি ঝর্ণা—নিম্বোখিয়াম দেখতে বেরিয়ে পড়েন। শেষ মুহূর্তে এসে আবারও বুঝতে হয়, পাহাড়ের কঠিনতা কখনোই সম্পূর্ণ জানা যায় না।

সেখানে পৌঁছাতে দুই নারী সহযাত্রী আটকে যান, তবে স্থানীয় সহায়তার মাধ্যমে তারা পৌঁছাতে সক্ষম হন।

বিজ্ঞাপন