ঢাকায় জলাভূমির সংকট ক্রমশ বাড়ছে, যা শহরের প্রাণবৈচিত্র্যের জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসে ঢাকার উত্তরা, দিয়াবাড়ি, গোড়ানচটবাড়ী, আফতাবনগর ও খিলখেত এলাকায় বন্যপ্রাণী দেখার উদ্দেশ্যে বের হওয়া ব্যক্তিরা শহরের জলাভূমি ও এর জীববৈচিত্র্যের অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, ১৯৬০ সালে ঢাকায় জলাভূমির পরিমাণ ছিল প্রায় ২ হাজার ৯৫২ হেক্টর, যা ২০০৮ সালে কমে দাঁড়ায় ১ হাজার ৯৯০ হেক্টরে। আইডাবলিউএম-এর সমীক্ষা অনুযায়ী, ১৯৮৫ সালের পর থেকে ঢাকায় ১০ হাজার হেক্টরের বেশি জলাভূমি, খাল ও নিম্নাঞ্চল হারিয়ে গেছে। বর্তমানে শহরের মোট আয়তনের মাত্র ৩ শতাংশ জলাভূমি রয়েছে।
জলাভূমির গুরুত্ব শুধু পরিবেশগত নয়, এটি মানুষের সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও অর্থনীতির সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত। মাছ ধরা, নৌকা চলাচল, জলজ উদ্ভিদ সংগ্রহ—এসব কার্যক্রম জলাভূমির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু বর্তমানে এই জলাভূমিগুলো দ্রুত হারিয়ে যাচ্ছে, যার ফলে শহরের জীববৈচিত্র্য বিপন্ন হয়ে পড়ছে।
জাতিসংঘের ওয়ার্ল্ড আরবানাইজেশন প্রসপেক্ট অনুযায়ী, ২০৩০ সালের মধ্যে ঢাকার জনসংখ্যা প্রায় ২ কোটি ৭৪ লাখে পৌঁছাতে পারে। জনসংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে বাড়ছে বর্জ্য, দূষণ ও অবকাঠামোগত চাপ, যা ঢাকার প্রাকৃতিক পরিবেশকে সংকুচিত করছে।
ঢাকার অধিকাংশ জলাশয়ের পানি বর্তমানে দূষিত হয়ে পড়েছে, যার ফলে জলজ খাদ্যশৃঙ্খলে বড় ধরনের পরিবর্তন ঘটছে। ২০১৭ সালে ঢাকার জীববৈচিত্র্য নিয়ে কাজ শুরু করার পর থেকে জলাভূমির অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হচ্ছে।
বর্তমানে শহরের জলাভূমি ও ঘাসভূমিনির্ভর পাখির সংখ্যা দ্রুত কমে যাচ্ছে। বিশেষ করে জলাভূমির চারপাশে নতুন ভবন গড়ে ওঠার কারণে তাদের আবাসস্থল নষ্ট হচ্ছে। পরিবেশ রক্ষায় এখনই কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের প্রয়োজন।