সোমবার, ১৯ অক্টোবর, ২০২৬
ব্রেকিং
অস্ট্রেলিয়ার এমপি হেলেন হেইন্স গুরুতর আহত, তদন্ত চলছে কানাডার সামরিক ঘাঁটিতে ঘাসের আগুনে চার সৈন্যের মৃত্যু কুষ্টিয়ায় লালন আখড়াবাড়িতে টাইম বোমাসদৃশ বস্তু উদ্ধার রাশিয়ার সেন্ট পিটার্সবার্গে ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলায় ১ নিহত, ক্ষতিগ্রস্ত শক্তি কেন্দ্র কলকাতার পূজামণ্ডপে পদপিষ্ট হয়ে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৯ কলকাতায় পূজামণ্ডপে পদদলিত হয়ে ১৯ জনের মৃত্যু কলকাতায় দুর্গাপূজায় পদপিষ্ট হয়ে ১৭ জনের মৃত্যু কক্সবাজারে রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডে ১০ জন নিহত, ৬ জন একই পরিবারের কুড়িগ্রামে ট্রাক চাপায় একই পরিবারের ৫ জন নিহত ইয়েমেনে হুথিদের হামলা: আডেনের বিমানবন্দর ও প্রেসিডেন্ট প্রাসাদ লক্ষ্যবস্তু
ফিচার

হুমায়ূন আহমেদের ১৪তম মৃত্যুবার্ষিকী: স্মরণে নির্জলা উৎসব

হুমায়ূন আহমেদের ১৪তম মৃত্যুবার্ষিকীতে স্মরণে নির্জলা উৎসবের আয়োজন।

হুমায়ূন আহমেদের ১৪তম মৃত্যুবার্ষিকী: স্মরণে নির্জলা উৎসব

১৯৯৩ সাল। ‘কোথাও কেউ নেই’ নাটকের ‘বাকের ভাই’ চরিত্রের ফাঁসির দিন। সন্ধ্যার পর থেকে গোটা দেশ সুনসান হয়ে পড়ে। রাজপথে মানুষের উপস্থিতি নেই, যেন অলিখিত কারফিউ। দর্শক টিভির সামনে অপেক্ষা করছে, কিন্তু সেখানে শ্মশান প্রবণ গাম্ভীর্য বিরাজ করছে।

সেদিন দেশের রাজপথ মুখর ছিল মানুষের মিছিলে, যখন বাকের ভাইয়ের ফাঁসি ঠেকানোর জন্য স্লোগান উঠছিল। কথিত আছে, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া নাটকের পরিচালক বরকত উল্লাহকে অনুরোধ করেছিলেন বাকের ভাইকে ফাঁসিকাষ্ঠে না ঝোলানোর জন্য। তবে নাটকের রচয়িতা হুমায়ূন আহমেদ ছিলেন তার সিদ্ধান্তে অটল।

নাটকটি শেষ হলে বাকের ভাইয়ের লাশ জেল ফটক দিয়ে বেরিয়ে আসে। টিভি সেটের সামনে বসা দর্শকদের মনে হচ্ছিল, ‘কোথাও কেউ নেই’। তারা যেন হারিয়ে ফেলেছে বাস্তব জীবনের নায়ককে। হুমায়ূন আহমেদ সমাজবিজ্ঞানীদের জন্য এক গবেষণার বিষয় হাজির করেছিলেন।

হুমায়ূন আহমেদকে শুধুমাত্র 'নাট্যকার' বা 'ঔপন্যাসিক' হিসেবে বেঁধে রাখা সম্ভব নয়। তিনি বাংলাদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় লেখক, নাটক ও সিনেমার নির্মাতাও ছিলেন। তার লেখা বইগুলো এখনও পাঠকের মনে স্থান করে আছে।

বাংলা বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনীর নতুন সংজ্ঞা নির্ধারণকারী হুমায়ূন আহমেদ নির্মিত 'আগুনের পরশমণি' চলচ্চিত্রটি আটটি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করে।

তিনি গীতিকার হিসেবেও জনপ্রিয় ছিলেন। 'একটা ছিল সোনার কন্যা', 'ও আমার উড়াল পঙ্খীরে', 'আমার আছে জল' এবং 'নদীর নামটি ময়ূরাক্ষী'র মতো গান লিখেছেন। তার হাত থেকে বেরিয়েছে 'আমার ভাঙা ঘরে ভাঙা চালা', 'যদি মন কাঁদে', 'চাঁদনী পসরে'র মতো কষ্টের গানও।

আজ হুমায়ূন আহমেদের ১৪তম মৃত্যুবার্ষিকী। তার সৃষ্টিশীল কর্মের মাধ্যমে ভক্ত ও অনুরাগীদের মনে তিনি চিরকাল বেঁচে থাকবেন।

বিজ্ঞাপন