ভারতের বাণিজ্যিক রাজধানী মুম্বাইয়ে একটি নতুন সাংস্কৃতিক ধারা দ্রুত জনপ্রিয়তা পাচ্ছে, যার নাম ‘ভজন ক্লাবিং’। এই অনুষ্ঠানে তরুণ-তরুণীরা ভক্তিমূলক সংগীতের সঙ্গে আধ্যাত্মিকতা ও বিনোদন উপভোগ করছেন।
মুম্বাইয়ের বিশাল এক অনুষ্ঠানস্থলে ভিড় জমাচ্ছেন বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া শিক্ষার্থী ও কিশোর-কিশোরীরা। প্রবেশপথে কিউআর কোড স্ক্যান করে হাতে ব্যান্ড পরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। অনুষ্ঠান শুরু হলে ভক্তিমূলক সংগীত পরিবেশন শুরু হয়, যা মুহূর্তেই দর্শকদের মধ্যে উচ্ছ্বাস তৈরি করে।
এখানে মদ, মাদক কিংবা ধূমপানের কোনো স্থান নেই। আয়োজকদের পক্ষ থেকে এসব সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। ২৫ বছর বয়সী জিল ভিরা বলেন, “এটি কেবল একটি কনসার্ট নয়, বরং ঈশ্বরের আরও কাছাকাছি যাওয়ার এক ভিন্ন অভিজ্ঞতা।”
বিশ্বজুড়ে জেন-জি প্রজন্ম মাদক ও অ্যালকোহল থেকে দূরে সরে যাচ্ছে। ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রে জনপ্রিয় ‘সোবার কিউরিয়াস’ অনুষ্ঠানগুলোর মতো, ভারতে ভজন ক্লাবিং সেই ধারার ধর্মীয় সংস্করণ হিসেবে আবির্ভূত হচ্ছে।
ভজন পরিবেশন নতুন কিছু নয়, তবে আধুনিক উপস্থাপনা নতুনত্ব নিয়ে এসেছে। বড় অডিটোরিয়াম, টিকিট কেটে প্রবেশ, এলইডি স্ক্রিন এবং আধুনিক মঞ্চসজ্জায় ভক্তিগান উপস্থাপন করা হচ্ছে, যা নতুন প্রজন্মের কাছে আকর্ষণীয় হয়ে উঠছে।
‘ব্যাকস্টেজ সিবলিংস’ নামে পরিচিত দুই ভাইবোন, রাঘব ও প্রাচি আগারওয়াল, আধুনিক উপস্থাপনার মাধ্যমে তরুণদের কাছে ভক্তিগান পৌঁছে দিচ্ছেন। রাঘব বলেন, “অ্যালকোহল আর ক্লাবিং এক বিষয় নয়।”
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভজন ক্লাবিংয়ের ভিডিও কোটি কোটি বার দেখা হয়েছে। ভারতের অন্যতম প্রাচীন সংগীত প্রতিষ্ঠান সারেগামাও এই উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। তবে, কিছু সমালোচনা রয়েছে যে ধর্মীয় আচারকে কনসার্টে রূপ দেওয়ায় আধ্যাত্মিকতা বাণিজ্যিক পণ্যে পরিণত হতে পারে।
ভারতের ধর্মীয় ও আধ্যাত্মিক অর্থনীতির বাজার ২০২৫ সালে ৫৮ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এই উদ্যোগের প্রশংসা করেছেন এবং বলেন, “ভজনের মর্যাদা ও পবিত্রতা অক্ষুণ্ন রেখেই জেন-জি প্রজন্ম এটিকে নিজেদের জীবনযাত্রার অংশ করে নিচ্ছে।”
এখন মুম্বাইয়ের পাশাপাশি দিল্লি ও বেঙ্গালুরুতেও এই আয়োজন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে।