২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত মো. জসিম উদ্দিনের স্ত্রী রুমা বেগম ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্য দিয়েছেন যে, তার বড় মেয়ে লামিয়াকে ধর্ষণ করা হয়েছে। এই ঘটনা ঘটেছে জবানবন্দি দেওয়ার কারণে।
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ রুমা জানান, ধর্ষণের ফলে লামিয়া মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে আত্মহত্যা করেন। রুমার স্বামী জসিম উদ্দিন আন্দোলনে যোগ দিতে গিয়ে গুলিবিদ্ধ হন এবং পরে হাসপাতালে মারা যান।
রুমা বলেন, ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই তার স্বামী বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে যোগ দেন। ওইদিন তিনি আহত হয়ে বাসায় ফেরেন এবং পরদিন জুমার নামাজের কথা বলে বের হন। এরপর তার স্বামী আর ফিরে আসেননি।
রুমা জানান, প্রতিবেশী একজনের মাধ্যমে জানতে পারেন যে, তার স্বামী গুলিবিদ্ধ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। হাসপাতালে গিয়ে তিনি দেখেন, জসিমের শরীরে গুরুতর আঘাত রয়েছে এবং চিকিৎসা চলাকালীন তার অবস্থার অবনতি ঘটে।
জসিমের মৃত্যু পরবর্তী সময়ে মরদেহ নিতে গিয়ে রুমাকে পুলিশি জটিলতার সম্মুখীন হতে হয়। তিনি অভিযোগ করেন, পুলিশ ক্লিয়ারেন্স ছাড়া মরদেহ দিতে অস্বীকৃতি জানায়। পরে ৩১ জুলাই তিনি স্বামীর মরদেহ পান এবং দ্রুত দাফনের নির্দেশ দেওয়া হয়।
রুমা বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন ভিডিও দেখে তিনি জানতে পারেন, শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগের নেতাদের নির্দেশে তার স্বামীকে হত্যা করা হয়েছে। তিনি জবানবন্দিতে নাম উল্লেখ করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন।