মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
ব্রেকিং
জাতীয়

সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের জন্মদিন: বাংলা সাহিত্যের এক নক্ষত্র

সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের জন্মদিন আজ, বাংলা সাহিত্যের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র।

সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের জন্মদিন: বাংলা সাহিত্যের এক নক্ষত্র

বাংলা সাহিত্যের অন্যতম খ্যাতনামা কবি, ঔপন্যাসিক ও কথাসাহিত্যিক সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের জন্মদিন আজ। তিনি ১৯৩৪ সালের ৭ সেপ্টেম্বর তৎকালীন অবিভক্ত বাংলার ফরিদপুর জেলার মাইজপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। বর্তমানে তার জন্মস্থান বাংলাদেশের মাদারীপুর জেলার ডাসার উপজেলার অন্তর্ভুক্ত।

চার বছর বয়সে পরিবারের সঙ্গে কলকাতায় চলে যান সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়। তবে তার জন্মভূমির স্মৃতি ও বাংলার সামাজিক-সাংস্কৃতিক বাস্তবতা তার সাহিত্যকর্মে নানা ভাবে ফিরে এসেছে। কবিতা, উপন্যাস, ছোটগল্প, প্রবন্ধ, ভ্রমণকাহিনি ও শিশুসাহিত্য; প্রায় সব শাখাতেই তার সাবলীল বিচরণ ছিল।

আধুনিক বাংলা কবিতায় নতুন ভাষা, বিষয় ও নির্মাণশৈলী প্রতিষ্ঠায় তার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। ১৯৫৩ সালে তিনি কয়েকজন তরুণ কবির সঙ্গে ‘কৃত্তিবাস’ কবিতা পত্রিকার সঙ্গে যুক্ত হন এবং পরবর্তী সময়ে এর সম্পাদনার দায়িত্ব পালন করেন। পত্রিকাটি তৎকালীন তরুণ কবি-লেখকদের জন্য নতুন ধারার সাহিত্যচর্চার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হয়ে ওঠে।

১৯৫৮ সালে প্রকাশিত হয় তার প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘একা এবং কয়েকজন’। এরপর ১৯৬৬ সালে প্রকাশিত হয় তার প্রথম উপন্যাস ‘আত্মপ্রকাশ’। ধীরে ধীরে বাংলা সাহিত্যে নিজের স্বতন্ত্র অবস্থান তৈরি করেন। তার উল্লেখযোগ্য রচনার মধ্যে রয়েছে ‘অরণ্যের দিনরাত্রি’, ‘সেই সময়’, ‘প্রথম আলো’, ‘পূর্ব-পশ্চিম’, ‘অর্ধেক জীবন’, ‘মনের মানুষ’, ‘হঠাৎ নীরার জন্য’ এবং ‘আমি কী রকম ভাবে বেঁচে আছি’।

সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের আরেকটি বিশেষ পরিচয় তার ছদ্মনাম ‘নীললোহিত’। এই নামে তিনি ভ্রমণ, জীবন ও তরুণ প্রজন্মের নানা অভিজ্ঞতাকে কেন্দ্র করে লিখেছেন। শিশুসাহিত্যেও তার অবদান স্মরণীয়। ‘কাকাবাবু-সন্তু’ সিরিজ বাংলা কিশোর সাহিত্যে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছে।

সাহিত্যকর্মের স্বীকৃতি হিসেবে সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় আনন্দ পুরস্কার এবং ১৯৮৫ সালে সাহিত্য অকাদেমি পুরস্কারসহ বিভিন্ন সম্মাননা পেয়েছেন। তার বেশ কিছু সাহিত্যকর্ম চলচ্চিত্রেও রূপ পেয়েছে। সত্যজিৎ রায়ের ‘অরণ্যের দিনরাত্রি’ ও ‘প্রতিদ্বন্দ্বী’ তার রচনার চলচ্চিত্ররূপের উল্লেখযোগ্য উদাহরণ।

২০১২ সালের ২৩ অক্টোবর কলকাতায় ৭৮ বছর বয়সে মারা যান সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়। তার প্রয়াণের এক যুগেরও বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও বাংলা ভাষার পাঠকের কাছে তার কবিতা, উপন্যাস ও সৃষ্ট চরিত্রগুলো এখনো সমানভাবে পরিচিত। বাংলা সাহিত্যে আধুনিকতার যে স্বতন্ত্র স্বর তিনি তৈরি করেছিলেন, তা তাকে পাঠকের কাছে দীর্ঘদিন স্মরণীয় করে রাখবে।

বিজ্ঞাপন