মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
ব্রেকিং
আন্তর্জাতিক

যুদ্ধের খরচ মেটাতে ইউক্রেনে পর্নোগ্রাফি বৈধ করার উদ্যোগ

যুদ্ধের ব্যয় মেটাতে ইউক্রেনে পর্নোগ্রাফি বৈধ করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

যুদ্ধের খরচ মেটাতে ইউক্রেনে পর্নোগ্রাফি বৈধ করার উদ্যোগ

রাশিয়ার সঙ্গে চলমান যুদ্ধের ব্যয় মেটাতে নতুন অর্থের উৎস খুঁজছে ইউক্রেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশটির সরকার পর্নোগ্রাফি শিল্পকে বৈধ করার উদ্যোগ নিয়েছে।

এই উদ্যোগের মাধ্যমে ইউক্রেনের দুর্বল অর্থনীতিকে চাঙা করার পাশাপাশি পর্নোগ্রাফি থেকে কর আদায়ের মাধ্যমে যুদ্ধের তহবিল বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। এ নিয়ে পার্লামেন্টে একটি বিলও তোলা হয়েছে, যা বর্তমানে আলোচনার অপেক্ষায় রয়েছে।

বর্তমানে ইউক্রেনে পর্নোগ্রাফি তৈরি, সংরক্ষণ বা বিতরণ আইনত নিষিদ্ধ। এই অপরাধের জন্য সর্বোচ্চ সাত বছরের কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে। তবে নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও প্রাপ্তবয়স্কদের বিনোদনভিত্তিক কনটেন্টের বাজার উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

বিলটির প্রস্তাবক, অর্থবিষয়ক কমিটির চেয়ারম্যান ইয়ারোস্লাভ ঝেলেজনিয়াক জানান, পর্নোগ্রাফিকে বৈধ করলে দেশের অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে এবং সরকার ২ কোটি ৫০ লাখ ডলার পর্যন্ত কর আদায় করতে পারবে।

তিনি বলেন, "বর্তমানে এই শিল্পের সঙ্গে যুক্ত নারীরা কর না দিয়ে ফৌজদারি মামলার মুখোমুখি হচ্ছেন, অথবা কর দিয়ে অপরাধের অভিযোগে অভিযুক্ত হচ্ছেন। এটি দুঃখজনক ও হাস্যকর।"

যুদ্ধ শুরুর আগে ইউক্রেনের কর্তৃপক্ষ প্রাপ্তবয়স্ক বিনোদন শিল্পের বিষয়ে অনেকটাই উদাসীন ছিল। তবে যুদ্ধের পর পরিস্থিতি বদলাতে শুরু করেছে।

সম্প্রতি, ইউক্রেনের প্রধান প্রসিকিউটরের কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, তিনটি অঞ্চলে কর্মকর্তারা ঘুষ হিসেবে ২০ হাজার ডলার পর্যন্ত নিয়েছেন।

অনলি ফ্যানস-এর মূল প্রতিষ্ঠান ফেনিক্স ইন্টারন্যাশনালের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালে ইউক্রেনের ৭ হাজার ৯০০ জন কনটেন্ট নির্মাতা ১৩ কোটি ১০ লাখ ডলারের বেশি আয় করেছেন।

বিলটি পাস হলে, ইউক্রেনে পর্নোগ্রাফি শিল্পের আইনি অবস্থান বদলে যেতে পারে এবং যুদ্ধকালীন অর্থনীতিতে অতিরিক্ত রাজস্ব আয়ের পথ তৈরি হতে পারে। তবে এই উদ্যোগটি সামাজিক-ধর্মীয়-রাজনৈতিক বিতর্কের জন্ম দিতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বিজ্ঞাপন