সোমবার, ০৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
ব্রেকিং
আন্তর্জাতিক

পুতিনের সঙ্গে বৈঠকের পর কিয়েভে যাচ্ছেন উইটকফ-কুশনার

যুক্তরাষ্ট্র ইউক্রেন যুদ্ধের অবসানে নতুন কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু করেছে।

পুতিনের সঙ্গে বৈঠকের পর কিয়েভে যাচ্ছেন উইটকফ-কুশনার

যুক্তরাষ্ট্র ইউক্রেন যুদ্ধের অবসানে নতুন কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু করেছে। রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে মস্কোয় দীর্ঘ বৈঠকের পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও তার জামাতা জ্যারেড কুশনার রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন।

শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) মস্কোয় প্রায় তিন ঘণ্টার বৈঠক শেষে তারা পুতিনের সঙ্গে নৈশভোজেও অংশ নেন। ক্রেমলিনের প্রকাশিত ভিডিওতে বৈঠকের বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়েছে। রুশ প্রেসিডেন্টের সহযোগী ইউরি উশাকভ বৈঠকটিকে ‘উপকারী’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন এবং জানান, মার্কিন প্রতিনিধিরা আলোচনার জন্য ভালোভাবে প্রস্তুতি নিয়ে এসেছিলেন।

উশাকভ জানান, বৈঠকে যুদ্ধ বন্ধের সম্ভাব্য পথ নিয়ে বেশ কিছু প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়েছে। উইটকফ ও কুশনার ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভোলদেমির জেলেনস্কির সঙ্গে রোববারের বৈঠকে এই আলোচনার ফলাফল তুলে ধরার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বৈঠকে পরবর্তী পদক্ষেপের জন্য গুরুত্বপূর্ণ পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে, যা আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে প্রকাশ করা হতে পারে।

এদিকে, উইটকফ ও কুশনারের সফরের সময় কিয়েভ ও আশপাশের এলাকায় রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা অব্যাহত রয়েছে। শুক্রবার কিয়েভে ইউক্রেনের নিরাপত্তা সংস্থা এসবিইউর সদর দফতরে হামলার ঘটনা ঘটে। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি জানান, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় সংকটের কারণে তারা ঝুঁকিতে রয়েছেন।

মার্কিন প্রতিনিধি দলের সফর সামনে রেখে কিয়েভে হামলা সাময়িকভাবে বন্ধের নির্দেশ দিয়েছেন পুতিন। তিনি তিন দিনের জন্য কিয়েভে রুশ হামলা বন্ধ রাখার নির্দেশ দিলেও বৃহত্তর যুদ্ধবিরতির বিষয়ে কোনো সমঝোতা হয়নি।

জেলেনস্কি জানান, শনিবার উইটকফ ও কুশনারের সঙ্গে তার কথা হয়েছে এবং ইউক্রেন হামলা না চালাতে প্রস্তুত রয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি জানিয়েছেন, তারা কিয়েভে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা করতে প্রস্তুত।

বৈঠকের শুরুতে পুতিন আলোচনাকে সহজ নয় বলে মন্তব্য করেন এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের প্রতি শুভেচ্ছা জানান। উইটকফও বলেন, রাশিয়ার সঙ্গে চলমান কূটনৈতিক তৎপরতা তাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ স্মৃতি হয়ে থাকবে।

বৈঠকে রুশ প্রেসিডেন্টের সহযোগী ইউরি উশাকভ ছাড়াও কিরিল দিমিত্রিয়েভ অংশ নেন, যিনি এটিকে ‘গুরুত্বপূর্ণ শান্তি প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

এদিকে, শনিবার কিয়েভের আশপাশে রুশ ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটেছে, যার মধ্যে বরিসপিল বিমানবন্দরও রয়েছে। জেলেনস্কি জানান, মার্কিন প্রতিনিধি দলের সফরের প্রস্তুতির কারণে বিমানবন্দরগুলোতে হামলা চালানো হতে পারে।

হোয়াইট হাউসে ট্রাম্প উইটকফ ও কুশনারকে ‘দারুণ আলোচক’ হিসেবে প্রশংসা করেছেন এবং তারা যুদ্ধ বন্ধের একটি প্রস্তাব নিয়ে যাচ্ছেন। তবে ক্রেমলিন তুলনামূলক সতর্ক অবস্থান নিয়েছে এবং নতুন কোনো ধারণা নিয়ে আলোচনা হচ্ছে কিনা সে বিষয়ে মন্তব্য করেনি।

বিজ্ঞাপন