সোমবার, ০৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
ব্রেকিং
আন্তর্জাতিক

ইসরায়েলের বিরুদ্ধে সমন্বিত হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে ইরান

ইরান একযোগে বহু ফ্রন্টে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে, দাবি ইসরায়েলি গোয়েন্দা মূল্যায়নের।

ইসরায়েলের বিরুদ্ধে সমন্বিত হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে ইরান

ইরান একযোগে বহু ফ্রন্টে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে। ইসরায়েলি গোয়েন্দা মূল্যায়নে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামলার সময় যে সমন্বয়ের ঘাটতি ছিল, এবার তা কাটিয়ে উঠতে তেহরান আঞ্চলিক মিত্রদের নিয়ে একটি সমন্বিত সামরিক অভিযান চালানোর পরিকল্পনা করছে। ইসরায়েলি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ইরান নিজ বাহিনীর পাশাপাশি লেবাননের হিজবুল্লাহ, গাজাভিত্তিক হামাস, ইয়েমেনের হুতি এবং ইরাকের ইরানপন্থি গোষ্ঠীগুলোকে একই অভিযানের আওতায় আনতে চাইছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, পরিকল্পনার মূল লক্ষ্য হলো একাধিক ফ্রন্টকে একই সময়ে সক্রিয় করা। এর ফলে উত্তর, দক্ষিণ, পশ্চিম ও পূর্ব দিক থেকে চাপ তৈরি করে বড় ধরনের আঞ্চলিক সংঘাতের পরিস্থিতি তৈরি করা হবে।

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার সময় ইরানপন্থি অন্যান্য ফ্রন্টগুলো সক্রিয় হয়নি। হামাসের নথি থেকে জানা যায়, সংগঠনটির তৎকালীন প্রধান ইয়াহিয়া সিনওয়ার সংঘাতকে আরও বিস্তৃত করার চেষ্টা করেছিলেন।

মার্কিন ও ইসরায়েলি মূল্যায়নে বলা হয়, ৭ অক্টোবরের হামলার আগে ইরান ও হিজবুল্লাহকে বিস্তারিত তথ্য জানানো হয়নি। সিনওয়ারের পরিকল্পনা ছিল, প্রাথমিক হামলা সফল হলে হিজবুল্লাহ ও ইরান পরবর্তী সময়ে বড় আকারের সংঘাতে যুক্ত হবে।

এখন তেহরান নতুন পরিকল্পনা করছে যাতে একাধিক ফ্রন্টকে একই সময়ে সক্রিয় করা হয়। হামাসের নেতৃত্বের সাম্প্রতিক পরিবর্তনও গুরুত্বপূর্ণ। গত জুলাইয়ে খলিল আল-হাইয়া সংগঠনটির নেতা নির্বাচিত হন, যিনি ইরানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রেখেছেন।

ইরানের নেতৃত্বাধীন 'প্রতিরোধ অক্ষ' এর মধ্যে নতুন সমন্বয়ের লক্ষণ দেখা যাচ্ছে। হামাস ও হিজবুল্লাহর মধ্যে সমন্বয় তৈরি হয়েছে, যা ইসরায়েলের বিরুদ্ধে চাপ বাড়ানোর প্রচেষ্টার অংশ।

ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) জানিয়েছে, সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ইরানের সহায়তায় হামাস ও হিজবুল্লাহ তাদের কার্যক্রম বাড়ানোর বিষয়ে সমন্বয় শুরু করেছে।

কুদস ফোর্সের কর্মকর্তারা হিজবুল্লাহ, হুতি ও ইরাকের মিলিশিয়াদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। এসব আলোচনায় সংঘাত আরও বিস্তৃত করার সম্ভাবনা নিয়ে কথা হয়েছে।

ইরান ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি সামরিক সক্ষমতা পুনর্গঠনের চেষ্টা করছে। ইরানপন্থি জোটের অভ্যন্তরীণ শক্তির ভারসাম্যও বদলাচ্ছে।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইরাক ও ইয়েমেনের সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো এখন এই আঞ্চলিক সমীকরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। তবে ইসরায়েলবিরোধী হামলার পরিকল্পনা বাস্তবায়নের সক্ষমতা সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য নেই।

বিজ্ঞাপন