যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনা করার সময় ইরান ও লেবাননের সংঘাতকে একই কাঠামোর মধ্যে আনতে জোর দিয়েছিলেন বলে দাবি করেছেন ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ। তিনি জানান, তেলআবিব দুটি সংঘাতকে সম্পূর্ণ আলাদা ইস্যু হিসেবে বিবেচনা করতে চেয়েছিল।
কাটজ সোমবার (২৯ জুন) সাংবাদিকদের সঙ্গে এক ব্রিফিংয়ে বলেন, ইরান ও লেবাননের সংঘাতকে একসাথে যুক্ত করার বিষয়ে তার ‘আক্ষেপ’ রয়েছে। তবে তিনি স্বীকার করেন, এটি যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত স্বার্থের কারণে করা হয়েছে।
তিনি বলেন, 'যুক্তরাষ্ট্র খুবই আগ্রহী ছিল ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য আলোচনা এগিয়ে নিতে। তাদের দৃষ্টিতে লেবাননের পরিস্থিতি সেই আলোচনার পথে একটি বড় বাধা ছিল।'
কাটজ আরও দাবি করেন, লেবাননে ইসরায়েলের কোনো ভূখণ্ডগত দাবি নেই। তবে তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন রয়েছে ইসরায়েলের সেনাবাহিনী সেখান থেকে সরে যাবে কি না, সে বিষয়ে।
তিনি বলেন, 'হিজবুল্লাহ’র নিরস্ত্রীকরণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত দক্ষিণ লেবানন থেকে সেনা প্রত্যাহারের কোনো পরিকল্পনা নেই।'
লেবানন ইস্যু ইতোমধ্যে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান সম্ভাব্য সমঝোতা আলোচনায় জটিলতা তৈরি করেছে। তেহরানের দাবি, কোনো চূড়ান্ত চুক্তি সইয়ের আগে লেবানন থেকে ইসরায়েলকে পুরোপুরি সেনা প্রত্যাহার করতে হবে।
কাটজ ব্রিফিংয়ে জানান, লেবানন সীমান্তের পশ্চিমে শতভাগ গ্রাম এবং সীমান্তের বাকি অংশের প্রায় ৭৩ শতাংশ গ্রাম ধ্বংস করেছে ইসরায়েল। এছাড়া, দক্ষিণ লেবানন থেকে বাস্তুচ্যুত প্রায় দুই লাখ মানুষকে নিজেদের বাড়িতে ফিরে যেতে দেয়া হবে না বলেও জানান তিনি।
তিনি সতর্ক করে বলেন, হিজবুল্লাহ উত্তর ইসরায়েলে হামলা চালালে বৈরুতের দাহিয়েহ এলাকায় আবারও হামলা চালাবে ইসরায়েল।
কাটজ জানান, ইরানের সঙ্গে আলোচনা ব্যর্থ হলে ইসরায়েল তেহরানের বিরুদ্ধে আবারও সামরিক অভিযান শুরু করার জন্য প্রস্তুত রয়েছে।