ইরান ও লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর সমন্বিত হামলা হলে ইসরায়েলের জ্বালানি ও সমুদ্রভিত্তিক অবকাঠামো মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়তে পারে বলে সতর্ক করেছে আলমা রিসার্চ অ্যান্ড এডুকেশন সেন্টার।
গবেষণা প্রতিষ্ঠানটির প্রকাশিত এক মূল্যায়ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হাইফা উপসাগর, ভূমধ্যসাগরের গ্যাসক্ষেত্র, সমুদ্রবন্দর এবং বেসামরিক জাহাজ চলাচলের ওপর একযোগে হামলা হলে ইসরায়েলের জ্বালানি সরবরাহ ও পানির উৎপাদনে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরান ও হিজবুল্লাহর কাছে রয়েছে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন ও অন্যান্য সামরিক সরঞ্জাম দিয়ে সমন্বিত হামলা চালানোর সক্ষমতা। যদিও ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এসব হুমকির বিরুদ্ধে রয়েছে, তথাপি একযোগে হামলা বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে।
আলমা সেন্টারের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ইসরায়েলের বিদ্যুতের ৭০ শতাংশের বেশি উৎপাদিত হয় ভূমধ্যসাগরের অফশোর গ্যাসক্ষেত্র থেকে। দেশের অর্ধেকের বেশি পানির চাহিদা পূরণ হয় সমুদ্রের পানি লবণমুক্ত করার প্ল্যান্ট থেকে।
হিজবুল্লাহর সামরিক সক্ষমতা আগের তুলনায় কমলেও, তারা এখনও ইসরায়েলের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলা চালানোর সক্ষমতা ধরে রেখেছে। ২০২২ সালে কারিশ গ্যাসক্ষেত্রে হিজবুল্লাহর ড্রোন হামলার চেষ্টার উদাহরণ তুলে ধরা হয়েছে প্রতিবেদনে।
ইসরায়েল সম্ভাব্য সমন্বিত হামলা মোকাবিলায় বহুস্তরীয় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলেছে। সমুদ্রে মোতায়েন সা'আর-৬ যুদ্ধজাহাজে দূরপাল্লার বারাক এলআরএডি প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ব্যবহার করা হচ্ছে।
প্রতিবেদনে সাইবার হামলার ঝুঁকির কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। ইরান ও তাদের সমর্থিত গোষ্ঠীগুলো অতীতে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর বিরুদ্ধে সাইবার হামলার দাবি করেছে।