যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের জ্বালানি খাতে সবচেয়ে কঠোর বিমান হামলাগুলোর একটি চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজের তথ্য অনুযায়ী, হামলার চূড়ান্ত অনুমোদন এখনো দেননি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সপ্তাহজুড়ে ইরানের বিভিন্ন জ্বালানি-সংশ্লিষ্ট স্থাপনায় হামলা চালানোর পরিকল্পনা রয়েছে, যার মধ্যে বিদ্যুৎকেন্দ্র ও তেল শোধনাগার অন্তর্ভুক্ত। মার্কিন কর্তৃপক্ষের মধ্যে আলোচনা চলছে হামলার সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে, বিশেষ করে সোমবার আর্থিক বাজার খোলার পর এর প্রতিক্রিয়া কেমন হতে পারে।
ইসরায়েলকে সম্ভাব্য অভিযানের বিষয়ে অবহিত করা হয়েছে এবং তারা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমন্বয় করছে। তবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এখনো হামলার চূড়ান্ত নির্দেশ দেননি। যদি যৌথ অভিযান পরিচালিত হয়, তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় হওয়া যুদ্ধবিরতির পর ইসরায়েলের সামরিক অভিযানে ফেরার ইঙ্গিত দেবে।
সিবিএস নিউজকে এক ইসরায়েলি কর্মকর্তা জানান, পূর্ণমাত্রার সামরিক অভিযান পুনরায় শুরুর বিষয়ে তাদের অবগত করা হয়নি এবং ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য কোনো সামরিক অভিযানে অংশ নেওয়ার জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে অনুরোধ করা হয়নি।
শুক্রবার ক্যাম্প ডেভিডে অনুষ্ঠিত প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের মন্ত্রিসভার বৈঠকে সম্ভাব্য সামরিক পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হয়। বৈঠক-পরবর্তী ব্রিফিংয়ে জানা যায়, কিছু উপদেষ্টা এ ধরনের অভিযানের বিরোধিতা করেছেন।
ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, 'আমরা তাদের ওপর খুব কঠোর আঘাত হানব। একপর্যায়ে তারা বলবে, আর সহ্য করতে পারছি না।' হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট জানান, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নিশ্চিত করেছেন যে, ইরান কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে পারবে না।
পেন্টাগনের মুখপাত্র শন পারনেল বলেন, প্রেসিডেন্টের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের আগে সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু নিয়ে মন্তব্য করবে না প্রতিরক্ষা দফতর। তবে প্রেসিডেন্টের নির্দেশ পেলেই তা বাস্তবায়নে সামরিক বাহিনী প্রস্তুত রয়েছে।
এক সাবেক মার্কিন সামরিক কর্মকর্তা সিবিএস নিউজকে জানান, ইরানের জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলা চালালে দেশটির সামরিক সক্ষমতা এবং রাষ্ট্র পরিচালনার ওপর উল্লেখযোগ্য প্রভাব পড়বে।
গত সপ্তাহে, ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছিলেন, হরমুজ প্রণালিতে কোনো জাহাজে হামলার প্রতিটি ঘটনার জবাবে ইরানের একটি করে সেতু বা বিদ্যুৎকেন্দ্র ধ্বংস করা হবে।