পশ্চিম তীরে সন্ত্রাসবাদ প্রতিরোধের অজুহাতে ব্যাপক অভিযান শুরু করেছে ইসরায়েলি বাহিনী। নাবলুস ও জেনিনসহ বেশ কয়েকটি শহরে এই অভিযান চালানো হচ্ছে, যা আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
ইসরায়েলি গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু চলতি সপ্তাহে পশ্চিম তীরে অতিরিক্ত সেনা মোতায়েনের নির্দেশ দিয়েছেন। একই সঙ্গে ‘তেল’ গ্রামে অভিযুক্ত ফিলিস্তিনিদের ঘরবাড়ি গুঁড়িয়ে দেওয়ার নির্দেশও দেন তিনি।
নেতানিয়াহু সরকারের পক্ষ থেকে নাবলুসের কাছে অবৈধ বসতি সম্প্রসারণের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে, যেখানে ৭৬৩টি নতুন আবাসন ইউনিট নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। অর্থমন্ত্রীর ঘোষণায় পশ্চিম তীরে নতুন খামার ও বসতি স্থাপন অব্যাহত রাখার সিদ্ধান্তও জানানো হয়।
আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী, অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরায়েলি বসতি নির্মাণ সম্পূর্ণ অবৈধ। তবে ২০২২ সালের শেষের দিক থেকে এখন পর্যন্ত পশ্চিম তীরে শতাধিক নতুন বসতি ও দেড় শতাধিক কৃষি আউটপোস্টের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই সিদ্ধান্তের ফলে ইসরায়েল-সমর্থিত বসতি স্থাপনকারী ও স্থানীয় ফিলিস্তিনি সম্প্রদায়ের মধ্যে নতুন রক্তক্ষয়ী সহিংসতার সৃষ্টি হতে পারে। ২০২৫ সালে পশ্চিম তীরে ঘটে যাওয়া গণউচ্ছেদের ঘটনায় প্রায় ৫০ হাজার ফিলিস্তিনিকে জোরপূর্বক বাড়ি ছাড়তে বাধ্য করা হয়েছিল।
এদিকে, পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতার প্রতিবাদে শনিবার তেল আবিবে বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়। এই বিক্ষোভে ইসরায়েলি আন্দোলনকারীরা ফিলিস্তিনিদের অধিকার রক্ষা ও যুদ্ধ বন্ধের দাবিতে স্লোগান দেন।