সংসদের তিনটি অধিবেশনে চারবার ওয়াকআউট করেছেন বিরোধীজোটের সদস্যরা। প্রথম অধিবেশনে সাবেক রাষ্ট্রপতির ভাষণ নিয়ে এবং দ্বিতীয় ও তৃতীয় অধিবেশনে সরকারের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগে সংসদ থেকে বেরিয়ে যান তারা।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা বলছেন, প্রতীকী প্রতিবাদকে বার বার হাতিয়ার করলে গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে। গণভোটের রায় বাস্তবায়ন ও সংস্কার ইস্যুতে বিরোধীদের মতামত উপেক্ষার সুযোগ নেই।
সংসদ অধিবেশনের শুরু থেকেই সরকারের বিরুদ্ধে সোচ্চার ১১ দলীয় জোট। গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন ইস্যুতে এরইমধ্যে ওয়াকআউট করেছেন একাধিকবার। বিরোধী দলীয় সংসদ সদস্যরা জানান, গণতান্ত্রিক চর্চা ও প্রতিবাদের ভাষা ওয়াকআউট।
ঢাকা-৫ আসনের বিরোধী জোটের এমপি মোহাম্মদ কামাল হোসেন বলেন, “গণতন্ত্রের ভাষা, প্রতিবাদের ভাষা, সংসদের ভাষা হলো ওয়াকআউট। জনগণের অধিকার লঙ্ঘন করা হচ্ছে, জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করা হচ্ছে; এ কারণে আমরা ওয়াকআউট করছি।”
সরকারের সিদ্ধান্তে একমত হতে না পারলে, রাজপথে জনগণকে নিয়ে জবাব দেওয়ার কৌশলও বিবেচনায় রাখছে ১১ দলীয় জোট। বিরোধী জোটের সংসদ সদস্য ডা. মাহমুদা আলম মিতু বলেন, “গণতান্ত্রিক উপায়ে যেভাবে প্রতিবাদ করা যায়, সেটা আমরা চালু রেখেছি। রাজপথও খোলা আছে।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষক কাজী মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান বলেন, “যখন–তখন ওয়াকআউট করলে, এর মূল্য থাকবে না। সমালোচনার মতো প্রতিদিন ওয়াকআউট করলে এটা প্রতিবাদের মতো হয়।” তিনি বলেন, “প্রতিবাদ হবে গুরুত্বপূর্ণ। খুব ঘনঘন ওয়াকআউট হওয়ায় এটার মূল্য কমে যাচ্ছে।”
অন্যদিকে, সরকারকেও বিরোধীদের মতামতে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান বিশ্লেষকরা। অতীতের নজির দেখে সতর্ক হওয়ার তাগিদ দেন তারা।