শনিবার, ১৭ অক্টোবর, ২০২৬
ব্রেকিং
অপরাধ

রংপুরে চারজন হত্যার ঘটনায় সিদ্ধার্থের বাবা-ভাইকে জিজ্ঞাসাবাদ

রংপুরের মাছুয়াপাড়ায় চারজন হত্যার ঘটনায় সিদ্ধার্থের বাবা ও ভাইকে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে মুক্তি দিয়েছে পুলিশ।

রংপুরে চারজন হত্যার ঘটনায় সিদ্ধার্থের বাবা-ভাইকে জিজ্ঞাসাবাদ

রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়ায় অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীসহ একই পরিবারের চারজনকে হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার সিদ্ধার্থ দাসের বাবা বিনয় দাস এবং বড় ভাই পার্থ দাসকে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে লিখিত মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দিয়েছে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। শনিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে নগরীর সেন্ট্রাল রোডে অবস্থিত ডিবি কার্যালয় থেকে তারা বেরিয়ে আসেন।

শনিবার বিকেলের দিকে তাদের ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। দীর্ঘ সময় জিজ্ঞাসাবাদ শেষে রাত সাড়ে ১০টার দিকে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়। রংপুর মহানগর পুলিশের উপ-কমিশনার সনাতন চক্রবর্তী জানান, 'বিকেলে সিদ্ধার্থ দাসের বাবা ও ভাইকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিয়ে আসা হয়েছিল। যেহেতু পুলিশ তাদের এনেছিল, ফলে তাদের কাছ থেকে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।'

জিজ্ঞাসাবাদে কি ধরনের তথ্য জানতে চাওয়া হয়েছে—এমন প্রশ্নের জবাবে বিনয় দাস বলেন, 'হত্যার ব্যাপারে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে জানতে চেয়েছে পুলিশ। আমরা যতটুকু মিডিয়ায় বলেছি, ততটুকুই পুলিশকে জানিয়েছি।'

ডিবি কার্যালয় থেকে বের হওয়ার সময় পুলিশের পক্ষ থেকে নতুন কোনো অভিযোগ বা তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানানো হয়নি। তবে তদন্তের স্বার্থে তাদের কাছ থেকে মুচলেকা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

গত শনিবার রাতে মাছুয়াপাড়ার একটি তালাবদ্ধ বাড়ি থেকে গণপতি চক্রবর্তী (৬৫), তাঁর স্ত্রী প্রীতিলতা (৫০), মেয়ে আগামী (২৫) এবং ছেলে আয়ুস (১২) এর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, চারজনকেই শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে।

ঘটনার পর থেকেই হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ এবং কারা এর সঙ্গে জড়িত তা নিয়ে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। পুলিশ প্রথমে ডাকাতির বিষয়টি সামনে আনলেও পরবর্তীতে বিভিন্ন সম্ভাব্য কারণ খতিয়ে দেখছে।

চার হত্যাকাণ্ডের ঘটনার পরের দিন পুলিশ মুগ্ধ দাস (২৩) ও সিদ্ধার্থ দাসকে (১৯) গ্রেপ্তার করে। তারা পরস্পরের আত্মীয় বলে জানা গেছে। গ্রেপ্তারের পর আদালতে হাজির করা হলে তারা ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন।

এদিকে এই ঘটনায় সীমান্ত ও বিদ্যুৎ দাস নামে আরও দুই ব্যক্তি আদালতের মাধ্যমে সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দিয়েছেন। ফলে মামলার তদন্তে আসামিদের জবানবন্দির পাশাপাশি সাক্ষীদের বক্তব্যও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

মাছুয়াপাড়ার এই চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডে একই পরিবারের চারজনকে হারানোর ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভ রয়েছে। তারা হত্যার প্রকৃত রহস্য উদঘাটন, জড়িতদের শনাক্ত এবং দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

বিজ্ঞাপন