সরকার ৬৪ জেলায় মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও হুইপদের বিশেষ দায়িত্ব প্রদান করেছে। এই দায়িত্বের আওতায় তারা সংশ্লিষ্ট জেলায় অপরাধ দমন এবং সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের সমন্বয় করবেন। সরকারের দায়িত্বশীলরা মনে করছেন, এর ফলে স্থানীয় প্রশাসনের কার্যক্রমে গতি আসবে এবং মাঠ প্রশাসনের সঙ্গে সরকারের দূরত্ব কমবে।
তবে বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, সমন্বয়ের অভাব হলে প্রশাসনে জটিলতা সৃষ্টি হতে পারে। রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের ঝুঁকিও তৈরি হতে পারে বলে তাদের মত। দেশজুড়ে অপরাধ নিয়ন্ত্রণে সরকারের নানা উদ্যোগ থাকা সত্ত্বেও খুন, মাদকদ্রব্যের বিস্তার, চুরি-ছিনতাইসহ বিভিন্ন অপরাধের ঘটনা উদ্বেগ বাড়াচ্ছে।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির কারণে সরকারের সমালোচনা বৃদ্ধি পেয়েছে। বিরোধী দল সংসদে এই বিষয়টি নিয়ে সরব রয়েছে। সরকারের নতুন উদ্যোগের অংশ হিসেবে ৩০ জন মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও হুইপকে জেলা পর্যায়ে অপরাধ দমন এবং উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের সমন্বয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি জানান, এই উদ্যোগের লক্ষ্য হচ্ছে সরকারের কার্যক্রম কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছানো এবং সরকারের প্রত্যাশা বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা। তিনি বলেন, সরকার আমলাতন্ত্রের ওপর নির্ভরশীল এবং আমলাতন্ত্রই সরকারের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করে।
তবে দায়িত্বপ্রাপ্তরা যদি সমন্বয় করে কাজ করতে ব্যর্থ হন, তাহলে ক্ষমতার দ্বন্দ্ব সৃষ্টি হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন সমাজ ও অপরাধ বিশেষজ্ঞ ড. তৌহিদুল হক। তিনি উল্লেখ করেন, স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কাজ করা কর্মকর্তাদের মধ্যে নির্দেশনার দ্বন্দ্ব দেখা দিতে পারে।
চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি আরও জানান, প্রশাসনের সঙ্গে সংঘাতের সুযোগ নেই এবং দায়িত্বপ্রাপ্তরা স্থানীয় প্রশাসনকে সহযোগিতা করবেন। তবে প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান এবং অন্যান্য সাংবিধানিক সংস্থার আইনগত ক্ষমতা খর্ব না করে সরকারের কার্যক্রম তদারকি ও সমন্বয় করবেন।