বাংলাদেশে জরুরি প্রয়োজনে জামানত ছাড়াই ঋণ পাওয়ার প্রলোভন নিয়ে কাজ করছে অন্তত ৩০টি অবৈধ লোন অ্যাপ। এসব অ্যাপের আড়ালে একটি ভয়ংকর ব্ল্যাকমেইল চক্র গড়ে উঠেছে, যা ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত তথ্য চুরি করে এবং পরে মানসিক নির্যাতন চালায়।
দৈনিক প্রথম আলোর অনুসন্ধানে জানা গেছে, এই অ্যাপগুলো ফেসবুক ও অন্যান্য সোশ্যাল মিডিয়ায় সহজ শর্তে ঋণের প্রলোভন দিয়ে বিজ্ঞাপন চালায়। ব্যবহারকারীরা যখন অ্যাপটি ইনস্টল করেন, তখন তাদের জাতীয় পরিচয়পত্র ও মোবাইল ফিনান্সিয়াল সার্ভিসের নম্বর চাওয়া হয়। তবে, আসল বিপদ শুরু হয় যখন অ্যাপটি ফোনের গ্যালারি, ক্যামেরা, কনট্যাক্ট লিস্ট এবং এসএমএস ব্যবহারের অনুমতি দাবি করে।
অ্যাপ ইনস্টল করার পর, ঋণের টাকা আসার পরপরই অস্বাভাবিক হারে সুদ বসানো হয়। উদাহরণস্বরূপ, ২৪ হাজার টাকার ঋণের বিপরীতে এক সপ্তাহের মধ্যে ৮১ হাজার টাকা দাবি করার ঘটনা ঘটেছে। যখন ব্যবহারকারী অর্থ পরিশোধে আপত্তি জানান, তখন এই অ্যাপগুলো চুরি করা কনট্যাক্ট লিস্ট ব্যবহার করে আত্মীয়স্বজনকে ফোন দিয়ে মানসিক নির্যাতন শুরু করে।
বাংলাদেশে সক্রিয় ৩০টি অবৈধ লোন অ্যাপের মধ্যে উল্লেখযোগ্য নামগুলো হলো সাথী লোন, পপক্যাশ, কুইক লোন, এবং ইজি টাকা। অনেক ক্ষেত্রে, এসব অ্যাপ নিবন্ধিত ক্ষুদ্রঋণ সংস্থার নাম ব্যবহার করে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করে।
দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশে এই চক্রটি মারাত্মক রূপ নিয়েছে। ভারতের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়, মাত্র দুই হাজার রুপি ঋণ নিয়ে ব্ল্যাকমেইলের শিকার হয়ে একজন তরুণ আত্মহত্যা করেছেন। ভারত সরকার ইতোমধ্যে ৩ হাজার ৭১৮টি অবৈধ লোন অ্যাপ বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছে।
আইনগতভাবে, বাংলাদেশে ডিজিটাল ঋণ প্রদানের ক্ষমতা শুধুমাত্র অনুমোদিত ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর রয়েছে। এই অবৈধ অ্যাপগুলো সম্পূর্ণ আইনবহির্ভূত এবং নিষিদ্ধ।
এই চক্রের পরিচালকদের কোনো নির্দিষ্ট কার্যালয় নেই এবং তারা আন্তর্জাতিক অপরাধী চক্রের সঙ্গে যুক্ত। মার্কিন বিচার বিভাগ ও জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, এসব অপরাধীরা কম্বোডিয়া, লাওস ও মিয়ানমারের সীমান্তে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
সতর্কতা হিসেবে, ব্যবহারকারীদের উচিত অ্যাপ পারমিশন চেক করা, প্রতিষ্ঠানের নাম যাচাই করা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিভ্রান্তিকর বিজ্ঞাপনে ক্লিক করা থেকে বিরত থাকা। যদি কেউ ইতোমধ্যে এই অ্যাপগুলোর ফাঁদে পড়ে থাকেন, তবে তাদের উচিত ভয় না পেয়ে আইনি সহায়তা নেওয়া। ডিজিটাল যুগে সচেতনতা হলো সবচেয়ে বড় সুরক্ষা।