মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট, ২০২৬
ব্রেকিং
অপরাধ

ঝাড়ফুঁক নামক কবিরাজি চিকিৎসায় কিশোরীকে যৌন নিপীড়ন, ১০ বছরের কারাদণ্ড

ফরিদপুরে কিশোরীকে যৌন নিপীড়নের ঘটনায় কবিরাজ হানিফ শেখকে ১০ বছরের কারাদণ্ড প্রদান।

ঝাড়ফুঁক নামক কবিরাজি চিকিৎসায় কিশোরীকে যৌন নিপীড়ন, ১০ বছরের কারাদণ্ড

ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে ১৫ বছর বয়সী এক কিশোরীকে যৌন নিপীড়নের দায়ে মো. হানিফ শেখ (৫১) নামক কবিরাজকে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

২৪ আগস্ট সোমবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ফরিদপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক ও জেলা ও দায়রা জজ শামীমা পারভীন এ রায় দেন। রায় ঘোষণার সময় আসামি আদালতে উপস্থিত না থাকায় তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।

দণ্ডপ্রাপ্ত হানিফ শেখ বোয়ালমারী উপজেলার পরমেশ্বরদী ইউনিয়নের ময়েনদিয়া গ্রামের বাসিন্দা। তিনি এলাকায় কবিরাজ হিসেবে পরিচিত এবং নিজ বাড়িতে ঝাড়ফুঁকের মাধ্যমে চিকিৎসা দিতেন।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের ২১ মার্চ ওই কিশোরীকে ঝাড়ফুঁক করাতে হানিফ শেখের কাছে নেওয়া হয়। পরদিন চিকিৎসার কথা বলে কিশোরীকে ফের নিজের ঘরে নিয়ে যান তিনি। সেখানে চিকিৎসার আড়ালে কিশোরীকে যৌন নিপীড়ন করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

কিশোরী ঘটনাটি পরিবারের সদস্যদের জানালে ২৪ মার্চ তার বাবা বাদী হয়ে হানিফ শেখকে একমাত্র আসামি করে বোয়ালমারী থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন। মামলাটি তদন্ত করেন ডহরনগর পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের এসআই মধুসূধন পান্ডে।

তদন্ত শেষে ২০২৫ সালের ৩০ মে হানিফ শেখকে একমাত্র অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। রাষ্ট্রপক্ষের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) গোলাম রব্বানী ভূইয়া রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, কবিরাজি চিকিৎসার নামে যৌন নিপীড়ন জঘন্য অপরাধ। এ রায় এ ধরনের অপরাধ দমনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। রাষ্ট্রপক্ষ রায়ে সন্তুষ্ট।

বিজ্ঞাপন