২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় আন্দোলনকারীদের ওপর হামলার সংবাদ প্রচার করা টেলিভিশন চ্যানেল বন্ধের নির্দেশ দিয়েছিলেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। এই তথ্যটি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এ প্রসিকিউশনের উপস্থাপন করা নতুন একটি কল রেকর্ডে উঠে এসেছে।
সোমবার (১০ আগস্ট) বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেলে এই কল রেকর্ডটি প্রমাণ হিসেবে জমা দেয়া হয়। ওবায়দুল কাদের এবং অন্য ছয়জনের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার যুক্তিতর্কের চতুর্থ দিনে এই রেকর্ডিং উপস্থাপন করা হয়।
কল রেকর্ডে ওবায়দুল কাদেরকে টেলিভিশন চ্যানেলগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিতে শোনা যায়। তিনি সংঘাতের খবর যাতে প্রচার না হয়, সে বিষয়ে তৎকালীন তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাতকে নির্দেশ দেন।
আরাফাত জানান, আগের দিনই কয়েকটি টেলিভিশন চ্যানেল বন্ধ করে দেয়া হয়েছে এবং যেসব চ্যানেল নির্দেশনা মানবে না, সেগুলো বন্ধ করে দেয়ার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, সংঘাতের ছবি, ভিডিও বা ফুটেজ প্রচার করলে সংশ্লিষ্ট চ্যানেলকে ‘এনিমি অব দ্য স্টেট’ ঘোষণা করে স্থায়ীভাবে বন্ধ করে দেয়ার হুমকি দেয়া হয়েছে।
কথোপকথনে আরাফাত পরিস্থিতিকে দুই ভাগে ভাগ করে উপস্থাপনের কথা বলেন। একদিকে কোটা আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা এবং অন্যদিকে ‘তৃতীয় পক্ষ’ হিসেবে জামায়াত-বিএনপির লোকজন সহিংসতা ও অগ্নিসংযোগ করছে বলে উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, কারফিউয়ের সিদ্ধান্তকে জামায়াত-বিএনপির ‘সন্ত্রাসীদের’ বিরুদ্ধে ব্যবস্থা হিসেবে এবং কোটা আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনা করে সমাধানের উদ্যোগ হিসেবে উপস্থাপন করা হচ্ছে।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ওবায়দুল কাদের ছাড়াও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, যুবলীগের সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশ, সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল, ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন এবং সাধারণ সম্পাদক ওয়ালি আসিফ ইনান আসামি।
গত রোববার (৯ আগস্ট) মামলার যুক্তিতর্কের তৃতীয় দিনে ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে তৎকালীন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলকের কথোপকথনের আরেকটি কল রেকর্ড ট্রাইব্যুনালে জমা দেয়া হয়। ওই কল রেকর্ড অনুযায়ী, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় ইন্টারনেটের গতি কমানোর নির্দেশ দিয়েছিলেন ওবায়দুল কাদের। তবে পলক তাকে জানান, এ পদক্ষেপ নেয়ার আগে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অনুমোদন প্রয়োজন হবে।