বর্তমানে ইরানে চলমান যুদ্ধের প্রভাব আমেরিকার তেল মজুতের উপর পড়ছে। যুক্তরাষ্ট্রের জরুরি তেলের মজুত ৪৩ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে পৌঁছেছে।
যুদ্ধের কারণে যুক্তরাষ্ট্র ১১ কোটি ব্যারেলেরও বেশি তেল বাজার থেকে বের করে নিয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পরিস্থিতি আমেরিকার জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য একটি বড় সংকট সৃষ্টি করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্র্যাটেজিক পেট্রোলিয়াম রিজার্ভ (এসপিআর) জরুরি পরিস্থিতির জন্য একটি বিশাল তেলের ভাণ্ডার। যুদ্ধের কারণে এই ভাণ্ডার থেকে বিপুল পরিমাণ তেল বের করতে হয়েছে, যা মার্কিন সরকারের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ইরান যুদ্ধের ফলে হরমুজ প্রণালিতে তেল চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে, যা বিশ্ববাজারে সরবরাহের ঘাটতি তৈরি করেছে। এই পরিস্থিতি মোকাবেলার জন্য আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে তেলের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে ইন্টারন্যাশনাল এনার্জি এজেন্সি (আইইএ) ইতিহাসের সবচেয়ে বড় সমন্বিত কৌশলগত তেল ছাড়ার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।
মার্চ মাসে যুক্তরাষ্ট্র ঘোষণা করেছে যে, তারা স্ট্র্যাটেজিক পেট্রোলিয়াম রিজার্ভ থেকে ১৭ কোটি ২০ লাখ ব্যারেল তেল বাজারে ছাড়বে। কিন্তু জুলাইয়ের শেষ সপ্তাহে আমেরিকার কৌশলগত তেলের মজুত ৩০ কোটি ৪৮ লাখ ব্যারেলে নেমে এসেছে।
এটি ১৯৮৩ সালের পর সর্বনিম্ন মজুত। যদি বাকি তেলও বাজারে ছাড়া হয়, তাহলে এটি ২৪ কোটি ৩০ লাখ ব্যারেলে নেমে যেতে পারে, যা হবে ১৯৮২ সালের পর সর্বনিম্ন।
যুদ্ধের শুরুতে প্রশ্ন ছিল, কত দ্রুত তেহরানকে চাপের মধ্যে ফেলা যাবে। কিন্তু এখন দেখা যাচ্ছে, আমেরিকা নিজেই চাপ সামলাতে নিজের জরুরি তেলের ভাণ্ডার খুলে দিতে বাধ্য হচ্ছে।