সোমবার, ১০ আগস্ট, ২০২৬
ব্রেকিং
আন্তর্জাতিক

ট্রাম্পের জন্য নতুন সংকট: ইরানের কৌশলগত নীরবতা

ট্রাম্পের অস্পষ্ট অবস্থান ও ইরানের কৌশলগত নীরবতা যুক্তরাষ্ট্রে নতুন সংকট তৈরি করেছে।

ট্রাম্পের জন্য নতুন সংকট: ইরানের কৌশলগত নীরবতা

মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে ডোনাল্ড ট্রাম্পের অস্পষ্ট অবস্থান এবং ইরানের কৌশলগত নীরবতা এক নতুন জটিল সমীকরণ তৈরি করেছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিস্থিতি ট্রাম্পের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎকে বিপন্ন করছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করছে।

বিশেষজ্ঞরা জানান, ট্রাম্পের মুখের কথায় ইরান নিয়ে ওয়াশিংটনের কোনো স্পষ্ট পরিকল্পনা নেই। অন্যদিকে, তেহরানও তাদের দাবির বিষয়ে অবস্থান চূড়ান্ত করতে চাচ্ছে না। সংঘাত দ্রুত শেষ করার তাগিদ প্রেসিডেন্টের সিদ্ধান্ত গ্রহণের স্বাধীনতাকে সীমিত করছে, যা ইরানকে সুযোগ দিচ্ছে।

ইরান ১৯৭৯ সালে মার্কিন দূতাবাসকে জিম্মি করে জিমি কার্টারকে ধরাশায়ী করেছিল। বিশ্লেষকরা মনে করেন, ট্রাম্পের ক্ষেত্রেও একই কৌশল অনুসরণ করছে তেহরান। তারা আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং জব্দ করা সম্পদ অবমুক্ত করার মতো জটিল শর্ত দিচ্ছে।

এছাড়া, যুদ্ধের নেতিবাচক প্রভাব মার্কিন জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়াচ্ছে এবং তেলের বাজার অস্থিতিশীল হওয়ায় ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা কমছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, শান্তি আলোচনা দীর্ঘায়িত করে ট্রাম্পকে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিকভাবে কোণঠাসা করতে চাচ্ছে ইরান।

ট্রাম্প এখন উভমুখী সংকটে পড়েছেন। যুদ্ধ চালিয়ে গেলে চাপ বাড়ছে, আবার যুদ্ধ থেকে পিছু হটলে সমর্থকদের ক্ষুব্ধ হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। স্থায়ী চুক্তিতে পৌঁছাতে ব্যর্থ হলে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধের ব্যর্থতা এবং যুদ্ধের আর্থিক ক্ষতির দায় নিয়ে মধ্যবর্তী নির্বাচনে যেতে হবে তাঁকে।

এই পরিস্থিতিতে চলমান সংঘাতের ফলাফল যুদ্ধক্ষেত্রে নয়, বরং মধ্যবর্তী নির্বাচনের ব্যালট বাক্সে নির্ধারিত হবে বলেই আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা।

বিজ্ঞাপন