সুইজারল্যান্ডে যুদ্ধ বন্ধে নতুন দফায় আলোচনা শুরু করেছে ইরান ও আমেরিকা। এই আলোচনায় অংশ নিয়েছে উভয় দেশের প্রতিনিধিদল, আয়োজক দেশ সুইজারল্যান্ড এবং মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তান ও কাতারের প্রতিনিধিরা।
পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় গত বুধবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান একটি অন্তর্বর্তীকালীন চুক্তিতে সই করেন, যা সুইজারল্যান্ডে অনুষ্ঠিত উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের মূল উদ্দেশ্য। মার্কিন প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স, অন্যদিকে ইরানি প্রতিনিধিদলে রয়েছেন পার্লামেন্টের স্পিকার বাকের গালিবাফ এবং আব্বাস আরাঘচি।
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এবং ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে বৈঠকের পর মার্কিন প্রতিনিধিদলের সঙ্গে একটি চতুর্পাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।
এই আলোচনা আগামী ৬০ দিন ধরে চলবে, যেখানে দুই পক্ষের কর্মকর্তারা শান্তি প্রক্রিয়ার চূড়ান্ত বিষয় নিয়ে আলোচনা করবেন। এ ছাড়াও ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং লেবাননে ইসরায়েলের যুদ্ধের মতো জটিল বিষয়গুলো নিয়ে সমাধানের চেষ্টা করা হবে।
রোববারের আলোচনার শুরুতে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেন, ‘জায়নিস্ট শাসকগোষ্ঠী লেবাননে তাদের প্রতিশ্রুতি লঙ্ঘন করে চলেছে। আজকের আলোচনায় এই বিষয়টি মূল আলোচনার বিষয় হবে।’
ইরানের প্রতিনিধিদলের প্রধান গালিবাফ জানান, তাঁরা আমেরিকাকে মনে করিয়ে দিতে সুইজারল্যান্ড যাচ্ছেন যে, প্রথমে তাদের সমঝোতার বাস্তবায়ন শুরু করতে হবে। মার্কিনিরা সেটি মেনে নেওয়ার পরই কেবল প্রযুক্তিগত আলোচনা শুরু হবে।
এদিকে, ইরানের সর্বোচ্চ নেতার উপদেষ্টা মোহাম্মদ মোখবের সতর্ক করে বলেছেন, তেহরান কেবল কাগজের কোনো চুক্তি মেনে নেবে না এবং ওয়াশিংটনকে অবশ্যই তার প্রতিশ্রুতি পুরোপুরি বাস্তবায়ন করতে হবে। তিনি বলেন, ‘আমাদের আলোচকরা প্রতিশ্রুতির পূর্ণ বাস্তবায়ন এবং অধিকার আদায় না হওয়া পর্যন্ত সন্তুষ্ট হবেন না।’