মহাবিশ্বের অজানা রহস্য উন্মোচনে নতুন অভিযানে যাচ্ছে নাসা। "জেমস ওয়েব" স্পেস টেলিস্কোপের সাফল্যের ধারাবাহিকতায় এবার উৎক্ষেপণের অপেক্ষায় রয়েছে নেন্সি গ্রেস রোমান স্পেস টেলিস্কোপ। এই টেলিস্কোপ "ডার্ক ম্যাটার, ডার্ক এনার্জি" এবং সৌরজগতের বাইরের নতুন গ্রহের সন্ধান দেবে।
নাসার নতুন অভিযানে নেতৃত্ব দিচ্ছেন বাংলাদেশি জ্যোতির্বিজ্ঞানী লামীয়া মওলা। তিনি ২০২১ সালে জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপ প্রকল্পের গবেষক দলের সদস্য ছিলেন এবং বর্তমানে নেন্সি গ্রেস রোমান স্পেস টেলিস্কোপ প্রকল্পেও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করছেন। লামীয়া জানান, রোমান টেলিস্কোপ মহাবিশ্বের দ্রুত সম্প্রসারণের কারণ অনুসন্ধান করবে এবং ডার্ক ম্যাটার ও ডার্ক এনার্জির প্রভাব বিশ্লেষণ করবে।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ম্যারিল্যান্ডে নাসার গডার্ড স্পেস ফ্লাইট সেন্টারে টেলিস্কোপটির নির্মাণ শেষ হয়েছে এবং এটি ফ্লোরিডার কেনেডি স্পেস সেন্টারে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী ৩০ আগস্ট মহাকাশের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করবে নেন্সি গ্রেস রোমান স্পেস টেলিস্কোপ। লামীয়া আশা প্রকাশ করেন যে, এই অভিযান মহাবিশ্বের অজানা অধ্যায় উন্মোচনে নতুন দিগন্ত খুলে দেবে।
লামীয়া বলেন, বাংলাদেশে মহাকাশ গবেষণা সীমিত পরিসরে হলেও সরকারি উদ্যোগে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে স্পেস সায়েন্স ও অ্যাস্ট্রোফিজিক্সে উচ্চশিক্ষা এবং গবেষণার সুযোগ বিস্তৃত করা সম্ভব। বেশ কয়েকজন শিক্ষক ইতিমধ্যে পিএইচডি সম্পন্ন করেছেন, যা মহাকাশ গবেষণার নতুন সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে।
তিনি ওয়েলসলি কলেজের "মিরর" প্রকল্প শুরু করেছেন, যেখানে বিশ্বের ইতিহাসে হারিয়ে যাওয়া নারী জ্যোতির্বিজ্ঞানী ও নভোচারীদের নিয়ে একটি বৈশিক ডিজিটাল আর্কাইভ তৈরি হচ্ছে। বাংলাদেশের চিত্রশিল্পী তারিন নাজ নীরা এই আর্কাইভের অলংকরণে কাজ করছেন।
তারিন নাজ নীরা জানান, "এটি একটি গবেষণা নির্ভর কাজ এবং অনেক নারী জ্যোতির্বিজ্ঞানীর পূর্বের ছবি নেই। ফলে তাদের গল্প পড়ে, কল্পনা করে ছবিগুলো আঁকতে হচ্ছে।" লামীয়া আশরাফ মওলা বলেন, "মিরর প্রকল্পে এশিয়া, আফ্রিকা ও দক্ষিণ আমেরিকার নারী জ্যোতির্বিজ্ঞানী ও নভোচারীদের অবদান সংরক্ষণ করা হবে।"
লামীয়া আরও বলেন, বাংলাদেশে মহাকাশের ছবি তুলতে নিরাপত্তার কারণে নারীদের অংশগ্রহণ সীমিত। তবে সরকারের উদ্যোগ ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাড়লে নাসাসহ বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে যৌথ গবেষণার সুযোগ তৈরি হতে পারে।