কোটা সংস্কার আন্দোলন থেকে শুরু করে চব্বিশের জুলাই অভ্যুত্থানে রাষ্ট্রযন্ত্রের বিরুদ্ধে শিল্পের ক্ষমতা ছিল অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ। রাষ্ট্র যখন জনগণের কণ্ঠ স্তব্ধ করতে চেয়েছিল, তখন দেয়ালের ক্যানভাস, হিপ-হপ মিউজিক, এবং ধারালো লেখাগুলো হয়ে উঠেছিল শোষণের বিরুদ্ধে প্রতিরোধের মাধ্যম।
তরুণ প্রজন্মের এই শিল্পকলা সাধারণ মানুষের মনে ভয় ভাঙার মন্ত্র ফুঁকে দিয়েছে। রাজপথের উত্তপ্ত পরিবেশে শিল্পীরা রং-তুলি হাতে নেমে এসেছিলেন, এবং দেয়ালের লেখাগুলো হয়ে উঠেছিল জনগণের মুক্ত সংবাদপত্র। 'বিকল্প কে? তুমি, আমি, আমরা', 'আমার ভাইকে মারলি কেন?'—এই লেখাগুলো দীর্ঘ ১৫ বছরের পুঞ্জীভূত ক্ষোভের প্রতিফলন।
জুলাই আন্দোলনের সাংস্কৃতিক সংযোজন ছিল তরুণদের স্বাধীন গান ও হিপ-হপ র্যাপ মিউজিক। র্যাপার হান্নান তার গান 'আওয়াজ ওঠা' দিয়ে লাখো তরুণের জাতীয় স্লোগানে পরিণত করেন। গান গাওয়ার অপরাধে তাকে পুলিশ গ্রেফতার করলেও রাষ্ট্র সুরকে শিকল পরাতে পারেনি।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও ডিজিটাল স্পেসে শিল্পীদের তৈরি পোস্টার ও ইলাস্ট্রেশন মুহূর্তেই সারাদেশে ছড়িয়ে পড়ে। শিল্পী দেবাশীষ চক্রবর্তীর পোস্টার আন্দোলনের রাজনৈতিক দাবিকে সহজ ভাষায় তুলে ধরেছে।
একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের মতো চব্বিশের শ্রাবণ বিদ্রোহেও গ্রাফিতি, গান ও লেখাগুলো মানুষের আবেগকে একত্রিত করেছে। রাষ্ট্রীয় বুলেটের হিংস্রতাকে শিল্পের সৃজনশীলতা দিয়ে পরাস্ত করেছে বাংলাদেশের তরুণরা।
রাজপথের রক্ত শুকিয়ে গেলেও, চব্বিশের জুলাইয়ে গান, কবিতা, ও রং-তুলির যে মহাজাগরণ ঘটেছিল—তা বাংলাদেশের মানুষকে শেখাল: অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে অস্ত্র লাগে না, সাহসের সাথে শিল্প মেশালেই সাম্রাজ্য কেঁপে ওঠে।