জর্ডানের রাজধানী আম্মানে অনুষ্ঠিত এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে প্রায় ২০টি মুসলিম দেশের প্রতিনিধিরা আল-আকসা মসজিদ এবং পূর্ব জেরুজালেমের পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেছেন। বৈঠকটি ছিল মুসলিম বিশ্বে একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত, যেখানে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে কূটনৈতিক পদক্ষেপ গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান জানান, বৈঠকে অংশগ্রহণকারী দেশগুলো শুধুমাত্র উদ্বেগ প্রকাশ করেনি, বরং যৌথভাবে কী ধরনের কূটনৈতিক ও বাস্তব পদক্ষেপ নেওয়া যায়, তা নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।
ফিদান উল্লেখ করেন, এই বৈঠকের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক ছিল স্থায়ী যৌথ ব্যবস্থা গঠনের সিদ্ধান্ত। আরব ও মুসলিম দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা সম্মত হয়েছেন, পূর্ব জেরুজালেম এবং আল-আকসাসহ ইসলামিক ও খ্রিষ্টান ধর্মাবলম্বীদের পবিত্র স্থানগুলোতে ইসরায়েলের যেকোনো পদক্ষেপ নথিভুক্ত করার জন্য একটি স্থায়ী ডকুমেন্টেশন মেকানিজম তৈরি করতে।
বৈঠকে অংশগ্রহণকারী দেশগুলো একটি আন্তর্জাতিক মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম গঠনের পরিকল্পনা করেছে, যেখানে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে অভিযোগ, ছবি, ভিডিও এবং তথ্য সংগ্রহ করে আন্তর্জাতিক সংস্থা ও বিশ্বজনমতের সামনে তুলে ধরা হবে।
যৌথ ঘোষণায় বলা হয়েছে, পূর্ব জেরুজালেমের আরব, ইসলামিক ও খ্রিষ্টান পরিচয় পরিবর্তনের যেকোনো চেষ্টা আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী এবং তা গ্রহণযোগ্য নয়। তারা পুনর্ব্যক্ত করেছে, পূর্ব জেরুজালেমই ভবিষ্যৎ স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের রাজধানী।
আল-আকসা মসজিদ নিয়েও কঠোর অবস্থান নেয়া হয়েছে। ঘোষণায় বলা হয়েছে, আল-আকসা কম্পাউন্ড শুধুমাত্র মুসলমানদের ইবাদতের স্থান। মুসল্লিদের ওপর বিধিনিষেধ, খননকাজ এবং ধর্মীয় স্থিতাবস্থা পরিবর্তনের যেকোনো প্রচেষ্টার নিন্দা জানানো হয়েছে।
এবার মুসলিম বিশ্বের প্রতিক্রিয়া শুধু নিন্দা ও বিবৃতিতে সীমাবদ্ধ নেই, বরং প্রায় ২০টি দেশ একই টেবিলে বসে যৌথ পদক্ষেপ, আন্তর্জাতিক প্রচার এবং ভবিষ্যৎ কূটনৈতিক কৌশল নিয়েও আলোচনা করেছে।