ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গো (ডিআর কঙ্গো) দেশটির খনিজ সম্পদের স্থানীয় প্রক্রিয়াজাতকরণ বাড়ানোর উদ্দেশ্যে কপার ও কোবাল্ট কনসেনট্রেট রফতানি নিষিদ্ধ করেছে। বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) সরকারী আদেশের মাধ্যমে এই নিষেধাজ্ঞার ঘোষণা দেওয়া হয়।
রফতানি নিষেধাজ্ঞার ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে কপারের দাম বেড়ে গেছে। লন্ডন মেটাল এক্সচেঞ্জে (এলএমই) কপারের দাম ১ দশমিক ৮ শতাংশ বেড়ে প্রতি মেট্রিক টন ১৪,৩৬৯.৫০ ডলারে পৌঁছেছে, যা গত ২৯ জানুয়ারির পর সর্বোচ্চ।
ডিআর কঙ্গো বিশ্বের বৃহত্তম কোবাল্ট সরবরাহকারী এবং কপারসহ বিভিন্ন খনিজের গুরুত্বপূর্ণ উৎস। দেশটি স্থানীয়ভাবে খনিজ সম্পদের প্রক্রিয়াজাতকরণ সক্ষমতা বাড়ানোর চেষ্টা করছে। গত ২৯ জুন জারি করা আদেশে খনিমন্ত্রী লুই কাবাম্বা ওয়াতুমসহ অন্যান্য মন্ত্রীরা স্বাক্ষর করেন।
নিষেধাজ্ঞা তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর হয়েছে, তবে বিশেষ কৌশলগত পরিস্থিতিতে এক বছরের জন্য রফতানির অনুমতি দেওয়া হতে পারে। নতুন আদেশে অর্থনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ খনি-উপজাত পণ্যের ওপর নতুন করব্যবস্থা চালু করা হয়েছে।
ডিআর কঙ্গো অতীতে ২০১৩, ২০১৯ ও ২০২৩ সালে কপার ও কোবাল্ট কনসেনট্রেট রফতানিতে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল। তবে দেশটির অভ্যন্তরীণ গলন সক্ষমতা পর্যাপ্ত না থাকায় কিছু ক্ষেত্রে ছাড় দেওয়া হয়েছিল।
নতুন আদেশে ২০২৩ সালের পূর্ববর্তী আদেশ বাতিল করা হয়েছে এবং খনিজ রফতানি ও খনি-উপজাত পণ্যের ওপর কর আরোপের জন্য নতুন কাঠামো চালু করা হয়েছে।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথম তিন মাসে ডিআর কঙ্গো ৬ লাখ ৯৬ হাজার ৭২৫ টন কপার ক্যাথোড এবং ৫৩ হাজার ৯২৬ টন কপার কনসেনট্রেট রফতানি করেছে।
খনি বিশ্লেষক ক্রিশ্চিয়ান-জেরো নীমার মতে, নতুন নিষেধাজ্ঞার ফলে অধিকাংশ খনি পরিচালনাকারীর ওপর বড় ধরনের প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা কম। তবে কামোয়া-কাকুলা প্রকল্পটি তুলনামূলকভাবে বেশি প্রভাবিত হতে পারে।