বিশ্বের প্রধান তেলের রুটগুলোতে নিরাপত্তা সংকটের মধ্যে সৌদি আরব নতুন একটি বহুজাতিক সামরিক জোট গঠনের ঘোষণা দিয়েছে। এই জোটে বাংলাদেশ, পাকিস্তান, তুরস্কসহ মোট ১৪টি দেশ অন্তর্ভুক্ত হয়েছে, যা মাল্টিন্যাশনাল মেরিটাইম ডিফেন্স অ্যালায়েন্স নামে পরিচিত।
জোট গঠনের মূল কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, ইরানের সমর্থনে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের সাম্প্রতিক কার্যক্রম। ২০ জুলাই থেকে হুতিরা সৌদি আরবের ওপর সামুদ্রিক অবরোধ আরোপ করে, যা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি সৃষ্টি করেছে।
সৌদি আরবের তেলবাহী জাহাজ ‘এনসিসি গাজাল’ হুতিদের হামলার শিকার হয়, ফলে আন্তর্জাতিক জলপথে চলাচল করতে হলে চাঁদা দিতে বাধ্য হতে হচ্ছে। এই সংকটের কারণে সৌদি আরব ৫০টিরও বেশি দেশকে আমন্ত্রণ জানিয়ে ১৪টি দেশের সমন্বয়ে এই জোট গঠন করেছে।
জোটের সদর দপ্তর রিয়াদে অবস্থিত এবং এতে অংশগ্রহণকারী দেশগুলো হলো—সৌদি আরব, তুরস্ক, কুয়েত, বাহরাইন, কাতার, জর্ডান, মিশর, পাকিস্তান, জিবুতি, সোমালিয়া, বাংলাদেশ, ইয়েমেন, সুদান এবং কোমোরোস।
এই জোটের উদ্দেশ্য হলো, সমুদ্রপথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং হুতিদের দ্বারা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যকে জিম্মি করা থেকে রক্ষা করা। সৌদি প্রতিরক্ষামন্ত্রী যুবরাজ খালিদ বিন সালমান জানিয়েছেন, এটি কোনো আক্রমণাত্মক জোট নয়, বরং আত্মরক্ষার উদ্দেশ্যে গঠিত।
জোটের কার্যক্রমের মধ্যে যৌথ নজরদারি, গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদান এবং দ্রুত যৌথ অপারেশন চালানোর পরিকল্পনা রয়েছে। এই উদ্যোগটি মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতির ওপর গভীর প্রভাব ফেলতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই জোটের মাধ্যমে বাংলাদেশসহ ১৪টি দেশের অর্থনীতি রক্ষা করতে এবং আন্তর্জাতিক তেলের দাম নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করার চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে, ইরান ও হুতিদের বিরুদ্ধে এই পদক্ষেপ নতুন বিশ্ব সংকটের সৃষ্টি করতে পারে কিনা, সেটাই এখন দেখার বিষয়।