দেশের শিল্প-কারখানাগুলোর উৎপাদন গ্যাস সরবরাহে ঘাটতির কারণে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। শিল্প মালিকদের মতে, গ্যাস সংকটের কারণে উৎপাদন অর্ধেকে নেমে এসেছে।
মহেশখালীর ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে কারিগরি ত্রুটির কারণে এই সংকট সৃষ্টি হয়েছে, যার ফলস্বরূপ দেশের প্রায় ৪০ শতাংশ শিল্প-কারখানার উৎপাদন আংশিক বা সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে।
দৈনিক প্রায় ৪ হাজার মিলিয়ন ঘনফুট জাতীয় চাহিদার বিপরীতে, রিগ্যাসিফাইড এলএনজি উৎপাদন ৪৫০-৫৫০ মিলিয়ন ঘনফুট কমেছে। বর্তমানে দেশে ২ হাজার ১০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ রয়েছে, যা ১ হাজার ৯০০ মিলিয়ন ঘনফুটের ঘাটতির সৃষ্টি করছে।
নিট কম্পোজিটের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাসুদ হাসান বলেন, 'সময়মতো জাহাজীকরণ করতে না পারলে ব্যবস্থা টিকিয়ে রাখা আমাদের জন্য দুষ্কর হয়ে যাবে এবং বায়ারও চলে যাবে।'
টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি শওকত আজিজ রাসেল জানান, 'গ্যাস-বিদ্যুৎ এগুলো একটু ঠিক করে নিয়ে এসে ব্যবসা করার একটা পরিবেশ তৈরি করার কাজ চলছে।'
বিশ্লেষকদের মতে, আমদানিকৃত এলএনজির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা দেশের শিল্পকে ঝুঁকিতে ফেলেছে। নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর পাশাপাশি নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধান এবং স্থলভিত্তিক এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
জ্বালানি বিশেষজ্ঞ শফিকুল আলম বলেন, 'নবায়নযোগ্য জ্বালানি অবশ্যই এখন ফিন্যান্সিয়ালি ভায়াবল এবং আমাদের জন্য এটা দ্রুততার সাথে এক্সপান্ড করা উচিত।'
এদিকে, সম্প্রতি ব্যবসায়ীদের সাথে বৈঠকে, শিল্পখাতের গ্যাস সংকট নিরসনে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।