নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যের দাম বৃদ্ধির পেছনে আড়তকেন্দ্রিক সরবরাহ ব্যবস্থা একটি প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। দেশের ১০টি খাদ্যপণ্যের সরবরাহ শৃঙ্খল বিশ্লেষণ করে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) বৃহস্পতিবার মহাখালীর ব্র্যাক সেন্টারে প্রকাশিত গবেষণা প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
গবেষণায় দেখা গেছে, খাদ্যপণ্যের একটি বড় অংশ নগর আড়তদারদের মাধ্যমে সরবরাহ হচ্ছে, যা বাজারে ক্ষমতার কেন্দ্রীকরণ তৈরি করছে। এতে দরকষাকষির ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে এবং প্রতিযোগিতা কমছে। সরবরাহে সামান্য বিঘ্ন বা মজুতদারির ঘটনাও দ্রুত খুচরা বাজারে মূল্যবৃদ্ধির কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১০টি খাদ্যপণ্যের মধ্যে ছয়টির ক্ষেত্রে খুচরা বিক্রেতারা প্রধানত নগর আড়তদারদের কাছ থেকেই পণ্য সংগ্রহ করেন। এসব পণ্যের মধ্যে রয়েছে পেঁয়াজ, আলু, কাঁচামরিচ, বেগুন, ডিম ও রুই মাছ। ফলে নির্দিষ্ট কয়েকটি আড়ত বা সরবরাহকারীর ওপর অতিনির্ভরতা তৈরি হয়েছে, যা বাজারের প্রতিযোগিতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।
সরবরাহ শৃঙ্খল যত দীর্ঘ, খামার থেকে খুচরা বাজার পর্যন্ত মূল্যবৃদ্ধির হারও তত বেশি। উদাহরণস্বরূপ, কাঁচামরিচের দাম উৎপাদক থেকে ভোক্তা পর্যন্ত ১১৬ শতাংশ বেড়েছে, যা বিশ্লেষিত পণ্যের মধ্যে সর্বাধিক। এছাড়া, মাঝারি পেঁয়াজের দাম ১০০ শতাংশ, দেশি পেঁয়াজের ৮৭ শতাংশ, ডালের ৭৮ শতাংশ এবং বেগুনের ৭২ শতাংশ বেড়েছে।
গবেষণায় খাদ্যপণ্যের উচ্চমূল্যের প্রধান কারণ হিসেবে সরবরাহ সংকট, ব্যবসায়ীদের যোগসাজশ এবং মজুতদারির ঘটনা চিহ্নিত করা হয়েছে। বাজার ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর ও প্রতিযোগিতামূলক করতে সিপিডি সাতটি সুপারিশ প্রদান করেছে।
সুপারিশগুলোর মধ্যে রয়েছে সরবরাহ শৃঙ্খলের অপ্রয়োজনীয় স্তর কমানো, পাইকারি বাজারে প্রতিযোগিতা বৃদ্ধি, কৃষক ও খুচরা বিক্রেতাদের জন্য বিকল্প ক্রেতা ও সরবরাহকারী তৈরি করা, নিয়মিত মূল্য প্রকাশ, বাজারে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা, আধুনিক সংরক্ষণ ও পরিবহন অবকাঠামো গড়ে তোলা এবং কৃষকের উৎপাদন ব্যয় কমাতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া।