আজ বিশ্ব ম্যানগ্রোভ দিবস। এই উপলক্ষে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে, মনুষ্য সৃষ্ট দুর্যোগের কারণে বিশ্বের বৃহত্তম শ্বাসমূলীয় বন সুন্দরবন বিপদের সম্মুখীন।
সুন্দরবন শুধুমাত্র বেঙ্গল টাইগার নয়, বরং হাজারো উদ্ভিদ, মাছ, পাখি ও বন্যপ্রাণীর নিরাপদ আশ্রয়স্থল। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে এই বন জলবায়ুর পরিবর্তনের বিরুদ্ধে সবচেয়ে শক্তিশালী প্রাকৃতিক ঢাল হিসেবে কাজ করে।
তবে, মিঠাপানির প্রবাহ কমে যাওয়ার ফলে বনের মাটি ও পানির লবণাক্ততা বাড়ছে, যা রয়েল বেঙ্গল টাইগার, চিত্রা হরিণ এবং বিভিন্ন প্রজাতির পাখির জন্য বিপদ ডেকে আনছে। বন দখল এবং পলি জমে নতুন চর জাগার ফলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে।
বন্যপ্রাণী গবেষক ড. আলী রেজা খান বলেন, “সুন্দরবনের বনাঞ্চলকে আমরা কতটুকু গড়তে দিয়েছি, সেটা ধ্বংস হচ্ছে কি না, এটা দেখতে হবে।” তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, বনবিভাগ সারা জায়গায় ৩–৫ প্রজাতির গাছ লাগিয়েছে, অথচ সুন্দরবনে প্রায় ৪০০ প্রজাতির গাছ রয়েছে।
পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম জানান, সরকার স্থানীয় জনগণকে সম্পৃক্ত করে বিজ্ঞানভিত্তিক বন ব্যবস্থাপনায় গুরুত্ব দিচ্ছে। তিনি বলেন, “সুন্দরবন প্রাকৃতিকভাবে আমাদের সুরক্ষা দিচ্ছে। মনুষ্য সৃষ্ট দুর্যোগে সুন্দরবন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।”
সম্প্রতি ফরাসি উন্নয়ন সংস্থার সঙ্গে যৌথভাবে সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য রক্ষা ও বনায়ন পুনরুদ্ধারের জন্য একটি প্রকল্প চালু হয়েছে।