শনিবার, ২২ আগস্ট, ২০২৬
ব্রেকিং
জাতীয়

সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য রক্ষায় বড় বাধা বন্যপ্রাণী শিকার

সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য রক্ষায় বন্যপ্রাণী শিকার বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য রক্ষায় বড় বাধা বন্যপ্রাণী শিকার

সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য রক্ষায় বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে বন্যপ্রাণী শিকার। উপকূলীয় অঞ্চলে সক্রিয় অপরাধী চক্রের একটি পূর্ণাঙ্গ তালিকা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এই তালিকায় বণ্যপ্রাণী শিকারে সরাসরি জড়িত ১৫০ জনকে চিহ্নিত করেছে বন বিভাগ।

সুন্দরবন, যা প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে সমৃদ্ধ, আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেয়েছে তার জীববৈচিত্র্যের জন্য। এখানে বাঘ, হরিণ, লোনা জলের কুমিরসহ নানা প্রজাতির বন্যপ্রাণী অবস্থিত। তবে শিকারিদের কারণে এসব প্রাণী হুমকির মুখে পড়েছে। বনের ভেতরে ফাঁদ পাতা, বিষটোপ ব্যবহার এবং গুলি করে বন্যপ্রাণী নিধনে এই চক্র সক্রিয় রয়েছে।

বন বিভাগের নিয়মিত টহলে অপরাধের হার কিছুটা কমলেও শিকারিদের নেটওয়ার্ক পুরোপুরি ভেঙে দেওয়া সম্ভব হয়নি। বন্যপ্রাণী রক্ষায় অবৈধ শিকার বন্ধে কঠোর অবস্থানে রয়েছে বন বিভাগ। পূর্ব সুন্দরবনের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, ‘সুন্দরবনের প্রাকৃতিক ভারসাম্য এবং বিপন্ন প্রজাতির বন্যপ্রাণী রক্ষায় আমরা জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছি।’

তিনি জানান, চিহ্নিত ১৫০ জন শিকারির তালিকা গোয়েন্দা সংস্থা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে দেওয়া হয়েছে। তাদের আইনের আওতায় আনতে বিশেষ অভিযান অব্যাহত রয়েছে। পরিবেশ, বন ও জলবায়ু প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেছেন, সরকার সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য রক্ষা ও বন দস্যুমুক্ত করতে সব ধরনের পদক্ষেপ নেবে।

প্রতিমন্ত্রী জানান, ‘কোনো প্রকার দুর্বৃত্তায়ন বরদাস্ত করা হবে না। সুন্দরবনকে রক্ষা করার দায়িত্ব আমাদেরই।’ পরিবেশবাদীরা সতর্ক করেছেন, বন্যপ্রাণী শিকার ও পাচার চক্রকে আইনের আওতায় না আনা গেলে সুন্দরবনের সম্পদ রক্ষা করা কঠিন হবে।

‘শুধু মাঠপর্যায়ের শিকারি নয়, বন্যপ্রাণী শিকার ও পাচার চক্রের মূল হোতা বা গডফাদারদের আইনের আওতায় আনা না গেলে সুন্দরবনের অমূল্য সম্পদ রক্ষা করা কঠিন হবে,’ বলেছেন সুন্দরবন রক্ষায় আমরা–এর আহ্বায়ক মো. নুর আলম শেখ।

সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য রক্ষায় শিকারিদের বিরুদ্ধে এই কঠোর পদক্ষেপ কতটা সফল হয়, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

বিজ্ঞাপন